প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনকে ঘিরে ঘর গোছাতে ব্যস্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তবে দল গোছানোয় অনেকটাই পিছিয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি। যোগ্য প্রার্থীর অভাবে যুবুথুব অবস্থা একসময়ের রাজপথ কাপানো জনপ্রিয় এই দলটির।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় প্রায় সব ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী সংকট চরমে পৌছেছে তাদের। সদর উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই প্রার্থীদের খুব একটা আগ্রহ নেই। বর্তমান চেয়ারম্যানদের অধিকাংশই বিএনপির হলেও তাদের কেউ কেউ প্রার্থী হতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন। আবার কোন কোন চেয়ারম্যান যোগদান করেছেন আওয়ামী লীগে। অথচ এই কুষ্টিয়া এক সময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটির খ্যাতি ছিল। সব উপজেলাতেই একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল তাদের।
বর্তমানে কেন এমন হাল বিএনপিতে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দীর্ঘ সময় বিএনপি ক্ষমতার বাইরে। তাছাড়া দলের ভেতরেও রয়েছে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি। দীর্ঘদিন দলের সম্মেলন না হওয়া। নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি। সেই সাথে তৃণমূলের সাথে রয়েছে জেলার নেতাকর্মীদের দূরত্ব। একই সাথে ক্ষমতাসীন দলের পেশিশক্তির প্রভাবও কিছুটা রয়েছে। এসব কারনে বিএনপি ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী সংকটে পড়েছে। শুধু প্রার্থীই নয়, কর্মীও সংকটেও বিএনপি। সেক্ষেত্রে আসন্ন নির্বাচন বিএনপির জন্য যে খুব একটা সুফল বয়ে আসবে এমনটা বলা যাবেনা।
জানা গেছে, মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলায় আওয়ামী লীগ-জাসদ চরম দন্দে দু’একটি ইউনিয়নে তাদের প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই ফসলও যে তারা ঘরে তুলতে পারবে তাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা। এছাড়া কুমারখালী ও খোকসা উপজেলাতেও একই অবস্থা। যেমনটি ঘটেছিল গত পৌর নির্বাচনে। ৫টি পৌরসভাতেই শোচনীয় হার মানতে হয়েছিল দলটির। তবে বিএনপির সংকট মানতে নারাজ জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন জানান, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তাদের কোন প্রার্থী সংকট নেই। প্রার্থীরা নির্বাচনে আসতে আগ্রহী। অনেক ইউনিয়নে প্রার্থীদের চুড়ান্ত করা হয়েছে। সূষ্ঠূ নির্বাচন হলে কুষ্টিয়ার সব ক’টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাদের প্রার্থী জয়লাভ করবে। তবে সূষ্ঠূ নির্বাচন নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে বলে মনে করেন দলের জন্য নিবেদিত এই নেতা। তিনি মনে করেন ভোটাররা বিএনপির বাক্সে ভোট দিতে মুখিয়ে রয়েছে।
সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হলে অবশ্যই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জয়লাভ করবে। একই কথা বলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সাজেদুর রহমান বাবলু। তিনি জানান, সাংগঠনিক দিক দিয়ে কুষ্টিয়া বিএনপি অনেক শক্তিশালী। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জেলার অধিকাংশ ইউনিয়নেই বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়লাভ করবে। বিএনপি অনেক বড় একটি দল। এ দলের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে কোন প্রার্থী সংকট নেই। তিনি বলেন, বিগত পৌর নির্বাচন মানুষের ভোটাধিকার হরন করেছে। বিএনপির নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল। একই পথে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও হাঁটলে জনগণ মেনে নিবেনা। তবে দলের নেতাকর্মীরা যে যাই বলুক আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি যে প্রার্থী সংকটে তা দৃশ্যমান। গেল নির্বাচনে অনেক যোগ্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করলেও তাদের অনেককেই এবারের নির্বাচনে দেখা যাবেনা। কারণ তারা নানা কারনে আগ্রহী নন।
সেক্ষেত্রে যেসব ইউনিয়নে আগ্রহী প্রার্থী রয়েছে তারা খুব একটা যোগ্য নন। তাদের দিয়ে নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনাও গৌন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনে কর্মী সংকটে পড়বে বিএনপি। তাতে পোলিং এজেন্ট খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। দলীয় চাপ তার একটি কারণ। তাছাড়া সাংগঠনিকভাবে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীন দলের চাপও আরেকটি কারণ।
ওএফ





