সরকার দেশে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জে তৃতীয় হাইটেক পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ পার্কে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা হবে।
ইতোমধ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও যশোরে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। সরকারের লক্ষ্য রয়েছে, এরপর দেশের প্রত্যেক জেলায় একটি করে হাইটেক পার্ক স্থাপন।
দেশের সব খাতে ডিজিটালাইজড ব্যবস্থা চালু করে সরকার এক জায়গা থেকে সব খাত দেখাশুনা ও পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে কারণে অন্যান্য জেলায়ও সরকার এ হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
সরকারের ভবিষ্যত লক্ষ্য রয়েছে, এ সব হাইটেক পার্কে স্থাপিত ইন্ডাস্ট্রি থেকে উৎপাদিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার পণ্য বিদেশে রফতানি করা হবে। অর্থাৎ দেশের শিক্ষিত যুব সমাজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের লক্ষ্য রেখেই হাইটেক পার্ক গড়া হচ্ছে।
কেরানীগঞ্জে ৪৩ একর জমির উপর সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার টেকনোলজি স্থাপনের জন্য সরকার বিশ্বব্যাংকের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছে।
সূত্র জানায়, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ শি চু গত ২০ এপ্রিল এ বিষয় নিয়ে বৈঠক করেন। শি চুর সঙ্গে ছিল তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
প্রতিমন্ত্রী হাইটেক পার্ক স্থাপনের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে আর্থিক সহায়তা চান। বিশ্বব্যাংক তাতে সায়ও দেয়।
বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সরকারের কাছে কেরানীগঞ্জে সফটওয়্যার টেকনোলজি স্থাপনের ব্যাপারে লিভারাইজিং আইসিটি ফর গ্রোথ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গর্ভনেন্স (এলআইসিটি) প্রকল্পের মাধ্যমে সম্ভাবতা যাচাইয়ের অনুরোধ জানায়।
বিশ্বব্যাংক জানায়, সম্ভাবতা যাচাইয়ের পর বোঝা যাবে কতদিনে এটা শেষ হবে এবং কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে। এসব জানার পর সেইভাবে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। অর্থাৎ প্রথম পর্যায়ে সম্ভাবতা যাচাই ও দ্বিতীয় পর্বে অর্থ বরাদ্দ। এ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দফতরে হস্তান্তর করা হবে।
২শ’ ৩২ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক। এরপরও ১শ’ একর জমি পাওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের উন্নয়নের জন্য ডেভলপার নিয়োগের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে। যে কারণে অর্থের পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
যশোরে সফটওয়্যার পার্ক তিন একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২শ’ ৫০ কোটি টাকা। অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে প্রায় ২৫ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে।
সূত্র জানায়, সরকারের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, দেশে চৌকস মানবসম্পদ তৈরি করতে প্রত্যেক বিভাগে একটি করে হাইটেক পার্ক স্থাপন করা হবে। এসব হাইটেক পার্কে দেশীয় ছাড়াও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হবে। তারা সেখানে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার শিল্প গড়ে তুলবেন।
দেশীয় বিনিয়োগকারীরা এ পার্কে বিজনেস প্রসেস অাউট সোর্সিং (বিপিও) করার সুযোগ পাবেন। এর ফলে দেশে তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি হবে।
এসএইচ





