আগামী ২১ জুলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নিজস্ব অর্থ ব্যয় ছাড়াই ডিজিটাল হোল্ডিং নম্বরযুক্ত প্লেট স্থাপন ও জরিপ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রত্যাশা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত এ জরিপ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করবেন ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক মো. ইব্রাহিম হোসেন খান।
জানা যায়, গত ১৬ জুন এলজিআরডি মন্ত্রণালয় ‘প্রত্যাশা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার’মাধ্যমে ডিসিসির কোনো অর্থ ব্যয় না করে নগরীর হোল্ডিং জরিপ এবং ডিজিটাল নম্বর যুক্ত প্লেট প্রদানের কার্যক্রমের অনুমোদন দেয়। পরে ডিএসসিসি থেকে তাদেরকে কার্যাদেশ দেয়া হয়।
তবে ঢাকা উত্তর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৫ সদস্যের একটি কমিটি করেছে। একইসঙ্গে ঢাকার দক্ষিণের কার্যক্রমের বিষয়টিও কড়া নজরে রেখেছেন বলে জানান যায়। অর্থাৎ দক্ষিণের সফতার উপর নির্ভর করছে ঢাকা উত্তরের কার্যাদেশ দেয়ার বিষয়টি।
এদিকে ঢাকা দক্ষিনের প্রশাসকের ব্যক্তিগত সচিব মো. মনিরুজ্জামান জানান, ডিএনসিসি’র খিলগাঁওস্থ আঞ্চলিক কার্যালয়ে উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রত্যাশা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নির্ধারিত পোশাক ধারী লোকজন প্রথমে ওই এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ কার্যক্রম শুরু করবেন। আর এ কাজে প্রায় ৫০০ লোক মাঠে নামবেন।
তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণের রেকর্ডে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার হোল্ডিং আছে। এ জরিপের পর হোল্ডিং সংখ্যা দ্বিগুন হবার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে অস্বাভাবিক বেড়ে যাবে হোল্ডিং ট্যাক্সের আদায়ের পরিমান। কারণ ২৬ বছর ধরে নগরীতে জেনারেল এ্যাসেসমেন্ট এবং ট্যাক্স পুন:নির্ধাণ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।
তিনি বলেন, প্রত্যাশা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার লোকজন প্রতিটি অলিগলি এবং বাসা- বাড়ি,এ্যাপাটমেন্ট ,মার্কেট , দোকান পাটসহ প্রভৃতি স্থাপনার জরিপ কার্যক্রমে অংশ নেবেন। ৩৬২ টাকার বিনিময়ে প্রতিটি হোল্ডিং’র জন্য একটি করে ডিজিটাল নম্বরযুক্ত হোল্ডিং প্লেট দেয়া হবে। আর এ অর্থ পরিশোধ করবেন ওই হোল্ডিং এর মালিক পক্ষ। তাদের জরিপ প্রতিবেদনে বিস্তারিত থাকবে হোল্ডিং মালিকদের নাম, ঠিকানা,জমির পরিমান, কত তালা স্থাপনার, কায়টি ইউনিট, স্থাপনার ধরণ,কবে নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে, আগে কত তালা ছিল,গাড়ির গ্যারেজ, লিফ্ট আছে কিনা, কোনো দোকান পাট আছে কিনা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে। পরে এ জরিপ প্রতিবেদনের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের পুরনো নথিপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে হোলিডং ট্যাক্স পুননির্ধারণ এবং নবায়নের কার্যক্রম শুরু করবে।
অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মমতাজ উদ্দিন বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠির পর বিষয়টি নিয়ে প্রধান সম্পত্তি কমকর্তা মো. ফসিউল্লাহর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের গঠিত কমিটিতে রয়েছেন,প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (তিনি নিজে), প্রধান ক্রয় ও ভান্ডার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, পরিবহণ বিভাগের জিএম মাহবুবুর রহমান এবং প্রকৌশল বিভাগের একজন প্রতিনিধি।
তিনি বলেন, এ কমিটি হোল্ডিং জরিপ এবং ডিজিটাল নম্বর যুক্ত প্লেট প্রদাণ কার্যক্রমের করে মতামতসহ পশাসকের দফতরে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। এরপর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন প্রত্যাশা সমাজ উন্ন্য়ন সংস্থার মাধ্যমে ডিজিটাল নম্বরযুক্ত হোল্ডিং প্লেট স্থাপনের কার্যাদেশ দিবেন কিনা। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণের কার্যক্রমের সফলতা কিংবা ব্যর্থতার বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণে থাকবে।
প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে ঢাকা উত্তরে রেকর্ডে ১ লাখ ৬০ হাজার হোল্ডিং রয়েছে। তবে জরিপ হলে হোল্ডিং সংখ্যা আরো বাড়বে এবং একইসঙ্গে রাজস্ব আদায়ের পরিমানও বাড়বে। তবে ভবন মালিকারা নিজেরা ৩৬২ টাকায় ডিজিটাল নম্বরযুক্ত হোল্ডিং প্লেট নেয়ার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানাবে কিনা তাও চিন্তার বিষয় রয়েছে।
প্রত্যাশা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার প্রধান মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন সৈকত জানান, তারা কক্সবাজার ইউনিয়ন পরিষদএবং কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল হোল্ডিং জরিপ করেছেন। ওই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার ঢাকা দক্ষিণে ডিজিটাল হোল্ডিং জরিপ কার্যাদেশ নিয়েছেন। আগামী ৮ মাসের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করার টার্গেট রয়েছে তাদের।
ঢাকা, একে, ১৯ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ





