অবহেলিত দরিদ্র মানুষদের যারা ভালোবাসেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন এম. আবদুস সোবহান। তিনি শুধু অবহেলিত দরিদ্রদেরই নয় সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন প্রতিবন্ধিদের। প্রতিবন্ধি দেখলেই আপন করে কাছে টানেন।
দীর্ঘদিন যাবত সোবহান প্রতিবন্ধিদের বিভিন্ন ভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে বিগত ৭ বছরে তিনি দেশের ৪৯ জেলায় ১৫ হাজার ৪০০ জন প্রতিবন্ধিকে হুইল চেয়ার দিয়েছেন। এম. আবদুস সোবহান স্বপ্ন দেখেন প্রতিবন্ধিদের কর্মক্ষম করে তোলার।
প্রতিবন্ধিদের বন্ধু হিসেবে পরিচিত এই মানুষটির নেতৃত্বে গাইবান্ধা জেলা শহরে পরিচালিত হচ্ছে ‘কর্মীরহাত’ মানবিক সংস্থা। দেশ বিদেশের অনেকেই ঘুড়ে গেছেন এই সংস্থায়। সবাই মুগ্ধ হয়েছেন সংস্থার কার্যক্রম দেখে।
সাদুল্লাপুর উপজেলার খোর্দ্দকোমপুর ইউনিয়নের কিশামত দুর্গাপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান এম. আবদুস সোবহান। এলাকায় প্রচলিত আছে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি অবহেলিতদের সেবা করতেন।
ব্যক্তি জীবনে পাঁচ সন্তানের জনক এম. আবদুস সোবহান এখন ৭৭ বছর বয়সি একজন মানুষ। এই বয়সেও তাঁর কাজের স্পৃহা দেখলে মনে হয় তিনি যুবক বয়সেই আছেন। এখনও তিনি নিরলস ভাবে পরিশ্রম করেন।
রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ১৯৫৭ সালে বিএসসি পাশ করে এম. আবদুস সোবহান এক বছর শিক্ষকতা করেন। এর পর তিনি দেশ বিদেশে বিভিন্ন সরকারী বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেণ।
তিনি ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পারি জমান। এম. আবদুস সোবহান ২০০৬ সালে দেশে ফিরে কর্মীরহাত মানবিক সংস্থার সভাপতির দায়ীত্ব গ্রহন করেন। ওই বছর থেকেই আমেরিকার ফ্রি হুইল চেয়ার মিশন কর্মীরহাতকে হুইল চেয়ার দেওয়া শুরু করেছে।
সেই থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশের ৪৯ জেলায় ১৫ হাজার ৪০০ শারিরীক প্রতিবন্ধির মাঝে বিনামুল্যে হুইল চেয়ার বিতরণ করেছেন এম. আবদুস সোবহান। এছাড়া ২০০৯ সালে থেকে এ পর্যন্ত হতদরিদ্র্য পরিবারের ১১৪ জন বিবাহযোগ্য মেয়েকে ৬ মাস ব্যাপি সেলাই, গোবাদি পশুপালন ও নার্সারী বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এর সঙ্গে তাদের একটি করে শেলাই মেশিন এবং কিছু নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রত্যেকটি মেয়ে উপার্জন করে নিজ পরিবারকে সাহায্য করছে। উপার্জনক্ষম হওয়ার কারণে কয়েকজন মেয়ের যৌতুক ছাড়াই বিবাহ হয়েছে।
উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আকতার বানু লাকির মতে সরকারী বে-সরকারী সবারই উচিত এম. আবদুস সোবহানকে সহযোগিতা করা। তিনি প্রতিবন্ধিদের বিনামূল্যে হুইল চেয়ার দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁকে সর্বান্তক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।
এআই/





