রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে চীনের দুইজন ও মিয়ানমারের একজন কর্মকর্তা কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।

আজ (২২ আগস্ট) বৃহস্পতিবার তারা উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করবেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া, মিয়ানমারে ওপারে দেশটির একটি উচ্চ পর্যায়ের দল অবস্থান করছে।

এইসব তথ্য জানিয়েছেন শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম।

আবুল কালাম বলেন, “রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সার্বিক পরিস্থিতি জানার জন্য বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের দূতাবাসের দুইজন ও মিয়ানমারের একজন কর্মকর্তা কক্সবাজারে এসেছেন। তারা তাদের মতো করে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে সে দেশের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল অবস্থান করবেন বলে শুনেছি। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) প্রত্যাবাসনের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আরও বলেন, “মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের আধিবাসীহিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে। আমরা এই তথ্যটি রোহিঙ্গাদের জানিয়েছি। এছাড়া মিয়ানমার সরকারের দেওয়া ছাড়পত্র অনুযায়ী ১ হাজার ৩৭টি পরিবারের মোট ৩ হাজার ৫৪০ জনকে ফেরত নেওয়ার প্রথম তালিকাটি দেওয়া হয়েছে।”

“এর মধ্যে গত দুইদিনে ২৩৫টি রোহিঙ্গা পরিবারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তাদের অনেকে সম্মতি দিয়েছেন মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার জন্য। তবে কতজন রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন হবে সেটি এখন জানা যাচ্ছে না। রাতে এইসব রোহিঙ্গাদের ডাটাবেজ তৈরি করার পর সকালে বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে।”

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্র-বৌদ্ধরা মুসলমানদের উপর নতুন করে গণহত্যা-ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ চালাতে থাকে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আরও প্রায় ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়ে আছে।

পুরনোসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩১টি শিবিরে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে জাতিসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

এরপর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া চালানো হয়। কিন্তু দফায়-দফায় চেষ্টা করেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। গত বছরের শেষ সময়ে এবং চলতি বছরের শুরুতে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা দিলেও কথা রাখেনি মিয়ানমার।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে দেশটির নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। মিয়ানমার সরকারের দাবি, রোহিঙ্গারা হলো বাংলাদেশি, যারা বর্তমানে অবৈধভাবে মিয়ানমারে বসবাস করছে।

এমবি