বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ ও ধানমন্ডি মাঠের সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ওই সমঝোতা স্মারক সই হয়। অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিসার থাকবে

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিসার থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে এ ধরনের কোনো পদ বা অবকাঠামো নেই। দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিসারের পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তিনি জানান, গতকাল অর্থ বিভাগ ৪৯৫টি উপজেলায় ক্রীড়া অফিসারের পদ সৃজনের অনুমোদন দিয়েছে।

আমিনুল হক বলেন, এসব উদ্যোগের সুফল পেতে সময় লাগবে। দুই, তিন বা পাঁচ বছর পর এর বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। এ জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

৪ হাজার ৫৯৯ ইউনিয়নে ১০ ইভেন্টে দল

তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দিতে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে ১০টি ইভেন্টে দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ অনলাইন নিবন্ধন হয়েছে। দ্বিতীয় আসরে খেলোয়াড় প্রয়োজন ছিল ১৪ লাখ। নিবন্ধনের জন্য আরও কয়েকদিন সময় থাকায় সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে।

যাচাই-বাছাই শেষে ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে ফুটবল, ক্রিকেটসহ ১০টি ইভেন্টে দল গঠন করা হবে বলে জানান তিনি।

খেলার মাঠ রক্ষায় ছাড় নয়

রামপুরায় মাঠ দখলের বিষয়টি সরকারের নজরে আসার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, দেশের কোথাও খেলার মাঠ দখল বা এ ধরনের কোনো ঘটনা নজরে এলে তা সরকারকে জানানো হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, খেলার মাঠ থাকবে এবং শিশুরা সেখানে খেলবে—এটি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে ধানমন্ডি মাঠের মতো মাঠগুলো যথাযথভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বিদ্যমান অবকাঠামো রেখে সেখানে নতুন কিছু সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

ঐতিহ্যবাহী ক্লাব নিয়ে নতুন উদ্যোগ

আবাহনী ও ধানমন্ডি ক্লাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর এসব ক্লাব নিয়ে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে।

তার ভাষ্য, আবাহনী, ধানমন্ডি ও মোহামেডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোকে ধরে রাখা প্রয়োজন। রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে এসব ক্লাব পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আবাহনী মাঠ পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে ক্লাব পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলো যাতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি ওয়ার্ডে ফুটসাল মাঠের পরিকল্পনা

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনসহ প্রতিটি জেলা পর্যায়ে ফুটসাল গ্রাউন্ড তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সিটি করপোরেশনগুলোকে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেক প্রশাসক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ডিপিপি জমা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

আমিনুল হক বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ফুটসাল গ্রাউন্ড তৈরি করতে চায় সরকার।

ক্রীড়া খাতে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা ও পেশাগত স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের ভাতার আওতায় আনার ফলে তৃণমূলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও উৎসাহ তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। খেলোয়াড়দের জীবন-জীবিকার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া ক্রীড়া খাতে নতুন করে বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কথাও জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

এস