বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানপত্র সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানোর প্রশাসনিক আদেশ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এতে স্বাক্ষর করেছেন।
মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ অধিদপ্তরে পৌঁছানোর পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে যোগদান কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
তার আশা, ১ অক্টোবরের মধ্যে সব সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক যোগদানপত্র হাতে পাবেন। এরপর তাদের পদায়ন করা হবে।
প্রশিক্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস নয়
যোগদানের পর নতুন শিক্ষকদের পদায়ন করা হলেও সঙ্গে সঙ্গে তাদের ক্লাসে পাঠানো হবে না। পদায়নের পর তারা প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। প্রশিক্ষণ শেষ করার পর বিদ্যালয়ে পাঠদানের সুযোগ পাবেন তারা।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, প্রশিক্ষণ চাকরির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পদায়নের সঙ্গে সঙ্গে নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়া উচিত।
তিনি জানান, নতুন শিক্ষকদের দুই মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগে তাদের ক্লাসে পাঠানো হবে না।
প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ না হলে কী হবে
নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ মূল্যায়নে উত্তীর্ণ না হলে নিয়োগ বাতিল হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
নেপ মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হতে না পারলে কারও নিয়োগ বাতিল হবে—এমন সিদ্ধান্তের কথা তিনি মনে করেন না। তবে এ ধরনের কোনো বিধান প্রশিক্ষণ মডিউলে যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এর আগে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের শর্ত হিসেবে প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। বর্তমানে প্রশিক্ষণের মূল্যায়নের ভিত্তিতে কাউকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেই বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
যেভাবে ১৪ হাজার শিক্ষকের সুপারিশ
গত ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
পরে ৮ ফেব্রুয়ারি নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়। একই সঙ্গে জেলাভিত্তিক প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ধাপ শেষ করার পরও সুপারিশপ্রাপ্তরা এতদিন যোগদান করতে পারেননি। পরে তাদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ১ অক্টোবরের মধ্যে যোগদান ও পদায়নের ঘোষণা দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এস





