জনশক্তি নেয়ার ক্ষেত্রে বিদেশিদের চাহিদায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন দক্ষ জনবল চায়। কিন্তু তাদের চাহিদা মতো জনশক্তি আমরা দিতে পারি না। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে বিদেশগামী মানুষের সংখ্যা কমেছে। বললেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ।
আজ রোববার নতুন বছরে সরকারের শ্রমবাজার পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা এবং আরবিএমের সভাপতি ফিরোজ মান্না। এ সময় সৌদি আরব থেকে নারী শ্রমিকরা ফিরে আসার বিষয়ে সরকার শক্ত অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, সত্যি বলা উচিত। না হলে এখাতের প্রকৃত অবস্থা মানুষ জানতে পারবে না। এ কারণে আমি সত্যি কথা বলছি। দেশ থেকে বিদেশগামী মানুষের সংখ্যা কমেছে। এর কারণ হল বিশ্বের যে সব দেশ জনশক্তি নেয়, তাদের চাহিদায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। তারা প্রশিক্ষিত লোক চায়।
তিনি বলেন, প্রতিবছর দেশ থেকে লাখ লাখ লোক বিদেশ যায়, কিন্তু দক্ষ লোক তৈরি হয় হাজার হাজার। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের সক্ষমতা কম। বিশেষ করে বর্তমানে সারা দেশে ট্রেনিং সেন্টারের সংখ্যা হবে ১৬৪টি। কিন্তু উপজেলা ৪৯২টি। ফলে বাকি উপজেলার লোকজন কোথায় প্রশিক্ষণ নেবে সেটি বিবেচনায় নেয়া দরকার।
মন্ত্রী বলেন, শুধু বিদেশে নয়, দেশেও দক্ষ লোকের চাহিদা আছে। কারণ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের (জনসংখ্যার বোনাসকাল) মধ্যদিয়ে যাচ্ছে দেশ। বেশিরভাগ জনশক্তি তরুণ। তবে এরা বেশিদিন তরুণ থাকবে না। এখনই এদের কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
কয়েকটি দেশে জনশক্তি রফতানির সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরাক এবং লিবিয়া আমাদের অন্যতম বাজার ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা আটকে গেছে। এখানে সবচেয়ে বেশি সমস্যা নিজেদের। কারণ যারা ওই দেশে যায়, তারা পালিয়ে আবার ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে এখাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে নারী কর্মীদের সমস্যা ছিল। গত বছর বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে সফর করেছে। এই সফরের পর থেকে অবস্থার উন্নতি হয়েছে। অর্থাৎ আমরা শক্ত অবস্থান নিয়েছিলাম। ফলে এরপর একজনও দেশে ফিরে আসেনি।
ইমরান আহমদ বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল সরকারি রেট অনুসারে জনশক্তি বিদেশে যেতে পারছে না। তবে আগের চেয়ে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, চলতি বছরে কমপক্ষে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ বিদেশে যাবে। এ ছাড়াও মুজিব বর্ষ পালন এবং বঙ্গবন্ধু ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রবাসী কল্যাণ সচিব মো. সেলিম রেজা বলেন, ২০১৯ সালে মোট ৭ লাখ ১ হাজার মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যা ৫১ হাজার বেশি। এ ছাড়াও আলোচ্য সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের বছরের চেয়ে সাড়ে ১৬ শতাংশ বেশি। এ ছাড়াও চলতি বছরে ২০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১৯ সালে দেশে ২১৪টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ১টির লাইসেন্স বাতিল, ২টি স্থগিত এবং ১৭২টির সার্ভার লক করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও এদের কাছ থেকে ৩৫২ জন কর্মীকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
সচিব বলেন, ২০১৯ সালে মোট ৩ হাজার ৬৫৮ জন মানুষের মৃত্যুদেহ বিদেশ থেকে এসেছে। আলোচ্য সময়ে বিদেশ থেকে ৮৫০ জনকে ৫৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেয়া হয়েছে।
এএস





