শীতের তীব্রতায় কুড়িগ্রামে নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু ও বৃদ্ধ।
গত তিন দিনে কুড়িগ্রাম সদর হাসপালে শীতজনিত নানা রোগে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় সহস্রাধিক রোগী। এদের মধ্যে নিওমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যাই বেশী।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আফরোজা বেগম জানান, ঠাণ্ডা লেগে তার সন্তানের ডায়রিয়া হয়েছে। তাই হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। তবে এখনও সে সুস্থ হয়নি। ডাক্তার বলছে, সময় লাগবে। তাই হাসপাতালে পড়ে আছেন।
চিকিৎসা নিতে আসা আরেক রোগীর অভিভাবক সালমা জানান, তার ছেলের বয়স ছয় মাস। শীতের কারণে প্রথমে সর্দি পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এজন্য হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। তবে তার নিউমোনিয়া হয়েছে কিনা ডাক্তার এখনও জানাননি।
রোগীদের চাপে হাসপাতালগুলোতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক রোগীকে মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তবে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নজরুল ইসলাম জানান, শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছে। বিশেষ করে ডায়রিয়া, কাশি, সর্দিসহ শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বেশি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে তাদের সাধ্যমত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ১৬টি নদ-নদী বেষ্টিত উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে শীত জেঁকে বসেছে। শীতের সঙ্গে উত্তরীয় হীমেল হাওয়ায় দুর্বল হয়ে পড়েছে চর দ্বীপচর ও নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ। তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা জনপদ। শীত নিবারনে গরম কাপড় না থাকায় নিদারুণ কষ্টে দিন পার করছে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। ঘন কুয়াশার কারণে দিনভর সূর্য আলো ছড়াতে পারছে না। শীত নিবারনে মানুষজন খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেয়ার চেষ্টা করছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আতিকুর রহমান জানান, এ অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
জেআই





