সিটি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত করার আগে প্রার্থীদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধানদের কাছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটানিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মিহির সরওয়ার মোর্শেদ এ চিঠি পাঠান।
এ ছাড়া তিনি নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তথ্য চেয়েছেন। প্রার্থীরা কোনো মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়েছে।
চিঠি পাঠানোর সত্যতা নিশ্চিত করে রিটানিং কর্মকর্তা মিহির সরওয়ার মোর্শেদ বলেন, ‘প্রার্থীদের তথ্য চেয়ে আমরা চিঠি দিয়েছি। যাতে প্রার্থীদের যাবতীয় তথ্য আমাদের দেয়। তাদের তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।’
চিঠিতে বলা হয়, ঘোষিত তফসিল অনুসারে আগামী ২৯ মার্চ মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মনোনয়ন প্রার্থী ১ ও ২ এপ্রিল বাছাই করা হবে। কোনো প্রার্থী স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ এর ৯(২) দফা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হন তাহলে সেই ব্যক্তি প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ এর ৯(২) ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল থেকে যদি কোনো ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হন। এ ছাড়া কোনো আদালত যদি আসামি ফেরারি ঘোষণা করেন তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিল হবে।
এ ছাড়া কোনো ফৌজদারী বা নৈতিক স্খলন জনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয় তাহলে সেই ব্যক্তি প্রার্থীর হওয়া অযোগ্য।
বিধিতে আরও বলা হয়, বিগত ৫ বছরের মধ্যে যে কোনো সময়ে প্যানেল কোড, ১৮৬০ (এ্যাক্ট নং এক্সআইভি অব ১৮৬০) এর সেকশন ১৮৯ অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত হন। এ ছাড়া সেকশন ২১৩, ৩৩২, ৩৩৩ ও ৩৫৩ অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত ও অপসারিত হলে প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন।
প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাছাই করতে দক্ষিণের রিটানিং কর্মকর্তা মিহির সরওয়ার মোর্শেদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছেও চিঠি দিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১ ও ২ এপ্রিল রিটানং অফিসারে করর্যেলয়ে মনোনয়ন পত্র যাছাই-বাছাই করা হবে। তাই আপনার আওতাধীন সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্তৃপক্ষ তার প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রার্থীতের তালিকা সংগ্রহ করে মনোনয়নপত্র দাখিলকারীরা আয়কর সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছে কিনা তা আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় প্রার্থীদের আয়কর রিটার্নের তথ্যাদি যাচাইয়ের আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এবার মেয়র ও কাউন্সিলর পদের জন্য ১২ ডিজিটেরটিআইএননম্বর বাধ্যতামূলক করেছে ইসি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চাহিদার ভিত্তিতে ইসি এ সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ১২ ডিজিটের বাধ্যতামূলক করে আইন সংশোধন করে। আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী সংসদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের টিআইএন নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে টিআইএন নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
জেএ





