নিখোঁজের তিন দিন পর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের স্কুলছাত্রী আফসানার (১০) লাশ মিলেছে।

শুক্রবার হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দি লাশ সোনারগাঁ উপজেলার কাইক্কারটেক সেতুর নিচ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

গোদনাইল আরামবাগের আশরাফুল ইসলামের মেয়ে আফসানা গোদনাইল স্কুলে ৩য় শ্রেণীতে পড়ত। আশরাফুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার স্কুলে যাওয়ার জন্য বের হয়ে আর বাসায় ফিরেনি আফসানা।

বুধবার রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করে জানায়, আপনার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। মুক্তিপণ ও মিষ্টি খাওয়ার জন্য ৬ হাজার টাকা দিলে ফেরত দেব। নিতাইগঞ্জে এসে টাকা দিয়ে যাবেন।

নিহত রোকসানা সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। পুলিশের ধারণা, রোকসানাকে অন্য কোথাও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গভীর রাতে মেঘনা নদীর চরে ফেলে দেয়া হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও রোকসানার স্বজনরা জানান, গত মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় এক বখাটে যুবক রোকসানাকে বাসা থেকে ডেকে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরদিন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার বাবা আশরাফুল মিয়ার মোবাইলে ফোন করে ছয় হাজার টাকা মুক্তিপণ চায়।

দিনমজুর আশরাফুল মিয়া মেয়েকে ফিরে পেতে মুক্তিপণের টাকা যোগাড় করার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। কিন্তু পরে টাকা দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করলে ওই মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ওইদিন রাতেই এ ব্যাপারে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে মেয়েকে খুঁজতে থাকেন।

দুপুরে সোনারগাঁয়ের কাইক্কারটেক সেতুর নীচে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুর লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। রোকসানার স্বজনরা মর্গে এসে লাশ শনাক্ত করেন।

জেড