শিশুদের প্রিয় প্রাঙ্গন শিশু একাডেমির জায়গাটি শিশু একাডেমিকে বরাদ্দ দেয়ার জন্য সুপ্রীম কোর্টের কাছে মানবিক আবেদন জানিয়েছে, শিশু অভিভাবক ও সংগঠক ফোরামের আহবায়ক রাজিয়া সোলতান রোজি।
শুক্রবার বিকালে জাতীয় পেস ক্লাবের সামনে শিশু অভিভাবক ও সংগঠক ফোরাম আয়োজিত ‘সবার আগে শিশু, শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’, শিশুদের জায়গা শিশুদের ফিরিয়ে দিন, শিরোনামে এক মানববন্ধনে এ আহবান জানানো হয়।
রাজিয়া সোলতানা বলেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ঢাকাসহ সারাদেশরে শিশু-কিশোরদের সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার প্রাণ কেন্দ্র। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সাংস্কৃতিক বলয়ের মধ্যে অবস্থিত এই একাডেমির প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে শিশুদের সংগীত, নৃত্য, চিত্রাংকন, অভিনয়, আবৃত্তি, গীটার, তবলা, দাবা, সুন্দর হাতের লিখা, কম্পিউটার ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়।
রাজিয়া বলেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রশিক্ষণ কোর্সে বিভিন্ন মেয়াদে ৪ হাজারের ও বেশি শিশুকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এছাও একাডেমি চত্বরে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য বিদ্যালয়ও পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা অভিবাবকবৃন্দ জানতে পেরেছি, শিশু একাডেমির বর্তমান স্থানটি মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট শিগগিরই ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের নির্দেশ কার্যকর হলে শিশুরা এই সুন্দর বিচরণক্ষেত্র থেকে বঞ্চিত হবে।
শিশুরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকেও বঞ্চিত হবে।বিষয়টি জানার পর থেকে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের রায়ের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক আমাদের শিশু সন্তানদের পক্ষে অভিভাবকবৃন্দ সুপ্রীম কোর্টের কাছে মানবিক জানাচ্ছি, যাতে আদালত আমাদের শিশুদের এই প্রিয় প্রাঙ্গনটি শিশু একাডেমিকে বরাদ্দ দেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের যুগ্ম-আহবায়ক মাহবুবুল হক, তারেক ইমতিয়াজ খান, জাতীয় কন্যা-শিশু এডভোকেসি ফোরামের সদস্য নাসিমা আক্তার জলি, নবাবগঞ্জ শাখার কচিকাচা মেলার সদস্য শুভাশিষ গোস্বামী, কিচিরমিচির সদস্য কবি মৌসূমিসহ শিশু সন্তানসহ আরো অসংখ্য অভিভাবক।
উল্লেখ্য, এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে শিশু একাডেমির প্রায় চার একর পরিমাণ সম্পত্তি সুপ্রিম কোর্টের মর্মে রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। এই রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ।
গত ৪ আগস্ট হাইকোর্ট শিশু একাডেমি কর্তৃপক্ষের কাছে সুপ্রিম কোর্টের সম্পত্তি হস্তান্তরের কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা জানতে চায়। শিশু একাডেমি আদলতকে জানায়, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় রাজধানী ঢাকার কোথাও তাদের এত বড় জায়গা দিতে পারবে না বলে জানিয়েছে। পরে শিশু একাডেমি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অবকাঠমো হস্তান্তরের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চায়।
তবে এই বিশাল অংকের অর্থ বরাদ্দের জন্য সরকারের উঁচু মহলের অনুমতির প্রয়োজন বলে জানায় অর্থ মন্ত্রণালয়। তাই রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেও এখনই শিশু একাডেমি সরিয়ে নেয়া সম্ভব নয় বলে জানান কর্তৃপক্ষ।
এর আগেও হাইকোর্ট তরফে শিশু একাডেমিকে সুপ্রিম কোর্টের জায়গা ছেড়ে দেয়ার জন্য কয়েকদফা তাগিদ দেয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে শিশু একাডেমির ভবিষ্যত্ নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের সম্পত্তি রক্ষায় হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী রাজধানীর সড়ক ভবন ও শিশু একাডেমির সম্পত্তিসহ ৫৫ দশমিক ৫ একর সম্পত্তি সুপ্রিম কোর্টের বলে গণ্য হবে।
তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ৭ বিচারপতির বেঞ্চ ২৮ জুলাই হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন। সড়ক ভবন ও শিশু একাডেমির পক্ষে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এই লিভ টু আপিল করা হয়েছিল।
২০১১ সালের ১০ মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ জনস্বার্থে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের সম্পত্তি সংক্রান্ত এক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সি এস খতিয়ান ১৬ হাজার ৮৫৫ এবং ১৬/১৬২ মৌজার মোট ৫৫ দশমিক ৫ একর সম্পত্তি সুপ্রিম কোর্টের বলা হয় (যার মধ্যে ১১ বিঘা বা ৩ দশমিক ৬৯ একর জায়গায় শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠিত)।
এমএ/ এআর





