লক্ষ্মীপুরে গরুর সাথে অসামাজিক কাজের অভিযোগ এনে সোহেল (৯) নামের এক শিশু শ্রমিককে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে একই পরিবার তিন সদস্য।
সদর উপজেলা মান্দারী গ্রামের আমির পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৪ পর্যন্ত টানা এ অমানবিক নির্যাতন চালায় ওই বাড়ির কালূ পাটোয়ারী তার ভাই জবি উল্যাহ পাটোয়ারী এবং তার মেয়ে সুমি।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মিজানুর রহিম দ্রুত গ্রাম পুলিশ বেলাল সহ কয়েকজনকে পাঠিয়ে বিকালে ওই শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করা হয় ।
নির্যাতিত শিশু সোহেল একই উপজেলার শান্তিরহাট কুশাখালি গ্রামের শহিদুল হোসেনের ছেলে ও মান্দারী কমার্শিয়াল মার্কেটের বাবুল ভ্যারাইটিজ ষ্টোরের দোকান কর্মচারী।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে দোকানের মালিক বাবুল বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। দোকান মালিক বাবুল জানান, পরিবারের অভাবে প্রায় ৫ মাস আগে সোহেল তার দোকানে কাজ নেয়। সকাল ১০ টার দিকে তার খাবার আনার জন্য শিশু সোহেলকে পশ্চিম মান্দারী গ্রামের আমির পাটোয়ারী বাড়িতে পাঠায়। বেলা ১১ টার দিকে দোকানের উদ্দ্যেশে যাওয়ার পথিমধ্যে কালু পাটোয়ারীর গরুর সঙ্গে অসামাজিক কাজের অভিযোগ তুলে শিশুটিকে বেধম মারধর করে। এবং বাড়িতে ধরে নিয়ে গাছে সঙ্গে বেঁধে সে নিজে, তার ভাই ও তার মেয়ে কিল-ঘুষি, লাথি এবং ঝাড়– দিয়ে আবারো মারধর করে।
শিশুটির শোর-চিৎকারে পাশ্ববর্তী লোকজন তার মা-বাবাকে জানায় এবং তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। এসময় কালু পাটোয়ারী তাকে ছেড়ে না দিয়ে উল্টো ৬০ হাজার টাকা দাবি করে। দাবীকতৃ টাকা না দেয়ায় টানা ৬ ঘন্টা গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করতে থাকে।
স্থানীয় মান্দারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহিম জানান, নির্যাতনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে একজন মেম্বার সহ গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, বর্তমানে সে চিৎিসাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, এটা জঘন্যতম এবং গুরতর অপরাধ। অভিযুক্তদের ঢেকে পরিষদে নির্যাতনের বিষয় জানতে চাইলে তারা কোন সদুত্তর দিতে না পারায় ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনের সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
চন্দ্রগঞ্জ থানা অফিচসার ইনচার্জ মোক্তার হোসেন জানান, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় থানা অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আভিযোগের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্তদের গ্রেফতারে চেষ্টা করা হচ্ছে।





