অবশেষে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভিড়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ। বৈরী আবহাওয়া ও রোহিঙ্গা সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ -সেন্টমার্টিন নৌ পথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল।

আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ৯ টায় জেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে টেকনাফ দমদমিয়া জাহাজ ঘাট থেকে কেয়ারী সিন্দাবাদ জাহাজটি পর্যটক নিয়ে প্রথম সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে পর্যটকবাহী ৬ টি জাহাজ এ নৌ পথে নিয়মিত যাতায়ত করবে।

জানা যায়, গত ১ মে থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ -সেন্টমার্টিন নৌ পথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল প্রশাসন। কিন্তু বৈরী হাওয়া কেটে যাওয়ার পরও সম্প্রতি মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় নিরাপত্তাজনিত কারণে নিষেধাজ্ঞা আরো কিছুদিন বৃদ্ধি করে প্রশাসন। এর আগেও পর্যটকদের নিরাপত্তা বিষয় বিবেচনা করে একাধিকবার জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়ে তা পুনরায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

এদিকে দীর্ঘ ছয় মাস পর প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটককবাহী জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় পর্যটকদের পাশাপাশি খুশি হয়েছেন দ্বীপবাসীও। আজ বেলা সাড়ে ১২ টায় ৩৪০ জন পর্যটক নিয়ে জাহাজ কেয়ারী সিন্দাবাদ সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছলে দ্বীপবাসী পর্যটকদের বরণ করতে অধীর আগ্রহে জেটিতে অপেক্ষা করে। পরে পর্যটকরা জাহাজ থেকে নামলে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ'সহ স্থানীয়রা পর্যটকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, "খারাপ আবহাওয়া এবং মিয়ানমার রাখাইনে রোহিঙ্গা সংকটের কারণে প্রায় ছয় মাস টেকনাফ- সেন্টমার্টিন নৌ পথে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোন পর্যটক দ্বীপে আসতে পারেনি। এতে দ্বীপের বাসিন্দারা এতদিন পর্যটক শূণ্যতা অনুভব করেছে। অনেক দিন পর দ্বীপে আবারও পর্যটকদের আগমণ ঘটছে এমন খবরে দ্বীপবাসী খুবই আনন্দিত। আমরা দ্বীপবাসীর পক্ষ থেকে পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করেছি।"

কিশোরগঞ্জ অষ্টগ্রাম থেকে আসা প্রবাসী পর্যটক সাঈদ রাজ বলেন, "বিদেশ থেকে চার মাসের ছুটিতে দেশে এসেছি। এর আগেও ২০১৪ সালে দেশে এসে আগ্রহ থাকার পরও কোন কারণে প্রবাল দ্বীপ দেখা হয়নি। এবারও দেশে এসে সেন্টমার্টিন দেখার অপেক্ষায় ছিলাম, পর্যটক মৌসুম শুরুর পরও জাহাজ চলাচল শুরু না হওয়ায় খুব খারাপ লাগছিল। মনে হয়েছিল যেন, ছুটি শেষে আবার প্রবাসে চলে যাওয়ার আগে স্বপ্নের প্রবাল দ্বীপ দেখা হবেনা। কিন্তু আমার সুভাগ্য যে, জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিন আসার সুযোগ হয়েছে।"

পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারী সিন্দাবাদ টেকনাফ ইনচার্জ শাহ আলম বলেন, "রোহিঙ্গা সংকটের কারণে এবার সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে জাহাজ ছাড়তে পর্যটন মৌসুম শুরুর প্রায় দেড়মাস বিলম্ব হয়েছে। এর আগে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১ মে থেকে ৩১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ চলাচলে পূর্বঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ছিল। রোহিঙ্গা সংকটের কারণে এবার বেশি সময় জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। আমরা আশা করি, এখন থেকে পর্যটকদের নিয়ে জাহাজ নিয়মিত সেন্টমার্টিন যাত্রা করবে।"

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত পত্রের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিন যেতে এখন থেকে আর কোন বাধা নেই। তবে, মিয়ানমার নাইক্ষ্যংদিয়ার অনতিদূর জলপথ অতিক্রম করার সময় জাহাজ কতৃপক্ষকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহিদুর রহমান বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে পর্যটকবাহী জাহাজ গুলো নিয়মিত যাতায়ত করতে কোন বাধা থাকবেনা। তবে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির কারণে সেন্টমার্টিন যাওয়ার সময় জাহাজ গুলো যেন মিয়ানমার সীমান্ত ঘেষে না যায় সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জাকারিয়া আলফাজ/এমবি