উন্নত বাংলাদেশ গড়তে এদেশে অধিক বিনিয়োগ করতে মার্কিন ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন নতুন বাবসায়িক অংশীদারিত্ব তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও আমেরিকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশ সরকার এবং আমেরিকা উভয়ই শান্তি, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবাধিকার রক্ষায় বিশ্বাসী। সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটনে একসঙ্গে কাজ করবে দু’দেশ।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউ ইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে আমেরিকান চেম্বার ও বিজনেস কাউন্সিল আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

২০১৩ সালে টিকফা চুক্তি স্বাক্ষরকে বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন যুগের সূচনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমেরিকায় বাংলাদেশি পণ্য শুল্ক মুক্ত সুবিধা পেলে মার্কিন ও বাংলাদেশ দু’দেশের ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমেরিকা ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছিল। ২০০১ সালে ক্ষমতা ছাড়ার সময় তা দাঁড়িয়েছিলো ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে।

তিনি বলেন, আমেরিকার এইএস এর মতো প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। হরিপুর ও মেঘনাঘাট বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করে এই কোম্পানি তাদের বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, ২০০৯ সালে তার সরকার যখন ফের ক্ষমতায় ফেরে তখন বাংলাদেশে আমেরিকার বিনিয়োগ ৪০ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বাংলাদেশে আমেরিকা মোট বিনিয়োগ করে ৩৩১.৩৫ মিলিয়ন ডলার।

শেখ হাসিনা বলেন, গোটা বিশ্বে আমেরিকার যে বিনিয়োগ তার তুলনায় বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ অনেক কম। তবে তার প্রত্যাশা আগামী তিন বছরের মধ্যে এই বিনিয়োগের হিসাব বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কারখানাগুলোর কর্ম-পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। একাজে নিয়মিত পরিদর্শনের জন্য তার সরকার এক হাজার পরিদর্শক নিয়োগ দিয়েছে। আইএলও-আইএফসির সহায়তায় উন্নত কর্ম-পরিবেশ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ট্রেড ইউনিয়নে সংখ্যা ১০০টি থেকে ২৩০টিতে উন্নীত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আট কোটি যুব কর্মশক্তি রয়েছে। তাদেরকে এসব শিল্পে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। আর উৎপাদিত যেকোনো পণ্যের জন্য রয়েছে ১৬ কোটি মানুষের বিশাল একটি বাজার।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ছাড়াও জাহাজ নির্মাণ, রিসাইক্লিং, রাসয়নিক সার, অটোমোবাইল, হালকা প্রকৌশল, কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ, ঔষধশিল্প, সিরামিক, পাটজাত পণ্য, তথ্য প্রযুক্তি, সমুদ্রসম্পদ আহরণ, পর্যটন, চিকিৎসা উপকরণ, টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে শিল্পায়িত মধ্য আয়ের একটি ডিজিটাল দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। আর ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত করা। তার মতে এর মধ্য দিয়েই আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।

হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতের ইম্পেরিয়াল হলে এই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদার, সিনিয়র সচিব আবুল কালাম আজাদ ও এফবিসিসিআই’র সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ।

ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ