মুক্তিযুদ্ধাকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে আপিল বিভাগে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় বহাল রাখায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শেরপুরে স্বজনহারা, মুক্তিযোদ্ধা ও কামারুজ্জামানের নির্যাতনে নিহত পরিবারের সদস্যরাসহ তার সাক্ষীরা। তারা দ্রুত এ রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে কামারুজ্জামানের রায়ের দিন শেরপুরে জামায়াত-শিবির যাতে কোন নাশকতামূলক কর্মকান্ড করতে না পারে, সে জন্য পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবসহ বিজিবিও প্রস্তুত রয়েছে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিবুল ইসলাম খান জানান, সারা জেলায় পুলিশের কড়া নজরদারি রয়েছে। কেউ যেন কোন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকান্ড করতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

এ রায় বহালের ব্যাপারে জেলা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘কামারুজ্জামানের সর্বোচ্চ শাস্তির মাধ্যমে জাতি কলঙ্ক মুক্ত হলো বলে আমারা মনে করি।’

মুক্তিযোদ্ধা তালাপতুফ হোসেন মঞ্জু ও কামারুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি বাজিত খিলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী জানান, ৪৩ বছর পর কামারুজ্জামানের বিচারের রায়ে সর্বোচ্চ শাস্তিতে বাজিত খিলাবাসী তথা বাংলাদেশ কলঙ্ক মুক্ত হলো।

কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অন্যতম সাক্ষী মনোয়ার হোসেন খান ওরফে মোহন মুন্সি বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা হইবার চাইছিলাম। কিন্তু কামারুজ্জামান আমাকে সুরেন বাবুর বাড়ির টর্চার সেলের দারোয়ান বানাইয়া রাখছিল। তার ফাঁসির রায়ে  আমার আত্মা শান্তি পাইলো।’

গত বছরের ৪ জুন কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, দেশত্যাগে বাধ্য করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাত ধরনের ঘটনায় অভিযোগ আনা হয়।


ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগের মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুলাই কামারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।

জেআই