মাওয়ার কাছে মাঝপদ্মায় ৩ শতাধিক যাত্রী নিয়ে এমএল পিনাক-৬ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় সরকারি হিসাবে এখনও ১১৮ জন নিখোঁজ রয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৭।
সোমবার সকালে আরও পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লৌহজং উপজেলার সহকারী কমিমনার- ভূমি (এসি-ল্যান্ড) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালাম পুলিশের বরাত দিয়ে জানান, আজ সকালে চাঁদপুরের হাইমচর এলাকার পদ্মা নদীর পাড় থেকে ভাসমান অবস্থায় আরো পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
এদিকে, ক্ষুব্ধ স্বজনরা বেলা পৌনে ৯টা পর্যন্ত মাওয়া ঘাটের মুখে পদ্মা রেস্ট হাউসের সামনের ১৪০/১৫০ জন রাস্তা অবরোধ করে রাখে। এতে যানজট সৃষ্টিসহ ফেরিঘাট থেকে যানবাহন আসা যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনে হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এর আগে রাত আড়াইটার দিকে একই স্থানে ৩০/৪০ জন 'দ্রুত লঞ্চ উদ্ধারের' দাবিতে অবরোধ করে। পরে প্রশাসনে হস্তক্ষেপে ১৫ মিনিট পর তা সরিয়ে নেওয়া হয়। এদিকে উদ্ধারকারী জাহাজ 'নির্ভীক' সকার পৌনে ১০টার দিকে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
একদিন পার হয়ে গেলেও উদ্ধার কাজে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। এখনও পর্যন্ত ডুবে যাওয়া লঞ্চটিই শনাক্ত করা যায়নি। রাতভর লঞ্চটি খোঁজা হলেও সকাল ৬টা থেকে তা আরও ব্যাপকভাবে শনাক্তের কাজ শুরু হয়েছে। বিআইডবস্নিউটিএ, নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ১৩ জন ডুবুরি স্পিড বোট নিয়ে নানা কৌশলে লঞ্চটি খোঁজার কাজ করছে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে সম্প্রতি আমদানি করা বিআইডবস্নিউটিএ 'সাইড স্ক্যানার সোনার' যন্ত্র ব্যবহার করে লঞ্চটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিখোঁজের তালিকায় ছিল ১২৫ জন। তবে এদের মধ্যে সাতজন জীবিত উদ্ধার নিশ্চিত হওয়ায় তা কমে এখন ১১৮ জন। ১ শ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে মাওয়া ঘাটে স্বজনহারা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। রাতভর ৫০/৬০ জন মাওয়া ঘাটের শেডের নিচে অবস্থান করলে এখন এই সংখ্যা ৩ শ ছাড়িয়ে গেছে। এদের কেউ কেউ ট্রলার ও স্পিডবোট নিয়ে পদ্মায় স্বজনদের খুঁজে ফিরছে। স্বজনদের বুক ফাটা আর্তনাদ ও গগনবিদারী আহাজারিতে পদ্মাপারের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। আধুনিক উদ্ধারকারী জাহাজকে বিলম্বে তলব করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্বজনরা।
বিআইডাব্লিউটিএ-এর পরিচালক শফিকুল হক মঙ্গলবার জানিয়েছেন, মাওয়া লঞ্চ ঘাট থেকে পৌনে ১ কিলোমিটার দূরে লৌহজং চ্যানেলে লঞ্চটি ডুবেছে এমন একটি ধারণা রেখে লঞ্চটি চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তবে এখানে পানির গভীরতা ৮০ থেকে ৯০ ফুট। প্রবল ঘূর্ণি স্রোত এখানে। বেঁচে যাওয়া যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের নিয়ে এই যায়গাটি ধারণায় নেওয়া হয়। তিনি জানান, এখানে পদ্মা নদীর তলদেশে বেশ বালিও জমা হচ্ছে।
ঢাকা, ৫ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





