সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড়ে আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে দুই মিনিটের এ ঘূর্ণিঝড়ে জেলার শ্যামনগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে শতাধিক ঘরবাড়ি, ধানের গোলা এবং তিন শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ভেঙে পড়েছে। দেওয়াল চাপা পড়ে এবং গাছ ও ঘরের চাল ভেঙে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
ভেটখালি গ্রামের অধিবাসী আফজাল শেখ জানান, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মাদার নদীর ভেটখালি বাজারের পিছনে গাজী বাড়ির দিক থেকে প্রচণ্ড ঝড় ওঠে। একই সঙ্গে শুরু হয় বৃষ্টি ও বজ্রপাত। মুহূর্তের মধ্যে রমজাননগর মুন্সিগঞ্জ ও কৈখালির অন্তত ২০টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।
আফজাল শেখ আরো জানান, ঝড়ে তার বাড়ি ও ধানের গোলাসহ বেশ কয়েকটি আকাশমনি গাছ ভেঙে পড়েছে। দেয়াল চাপা পড়ে তার বাড়ির কর্মী আব্দুর রহমান (১২) ও আয়েশা খাতুন (২২) জখম হয়েছেন। এ ছাড়া বাড়ির পাশে নরিম গাজী, আল আমিন, সুনীল বৈদ্য, সাত্তার মোড়ল, নওশের গাজী, মজিদ গাজী ও বেলাল শেখের বসতঘর ও রান্না ঘরের চাল উড়ে গেছে।
একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি ঘরের দেয়াল ভেঙে পড়েছে ও গ্রামের কয়েক শ গাছ উপড়ে পড়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন শহীদ হোসেন (১৮), রহিমা খাতুন (৩০) এবং ছলেমান গাজীসহ সাতজন। একইভাবে রমজাননগর, কৈখালি ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ট্যাংরাখালি, গোলাখালি, মীরগাঙ, যতীন্দ্রনগর, মুন্সিগঞ্জ, আটির পর, চুনকুড়ি, কালিঞ্চিসহ অন্তত ২০টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। আহতদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান জানান, তিনি ঢাকায় ট্রেনিং-এ রয়েছেন। খবর পেয়ে তিনি উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কমকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সহায়তার ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সৈয়দ ফারুক আহম্মদ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।
ঢাকা, ২৪ জুন(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস





