পাইপলাইনে বৈদেশিক সাহায্যের সঞ্চিতি ১৯ দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার রয়েছে বলে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।

সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাইপলাইনে বৈদেশিক সাহায্যের সঞ্চিতি ও এর ব্যবহার সম্পর্কিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রতিশ্রুতি (কমিটমেন্ট) ও ছাড়ের যে বিয়োগফল তা হলো পাইপলাইন। কমিটমেন্ট হলো অর্থায়ন চুক্তিতে যে পরিমাণ অর্থের উল্লেখ থাকে। চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই টাকা ছাড় করা হয় না, ছাড় হয় বাস্তবায়নের ওপর।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পাইপলাইনে বৈদেশিক সাহয্যের সঞ্চিতি আস্তে আস্তে বাড়ছে। এর কারণ কমিটমেন্টও বাড়ছে। নতুন চুক্তির সঙ্গে সঙ্গে এটা আরো বাড়বে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ৮৬ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার উন্নয়ন সহযোগিতা পেয়েছে। যার মধ্যে ব্যবহার হয়েছে ৬৮ বিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাইপলাইনে গড়ে প্রতিবছর ১৮ শতাংশ ছাড় হয়ে থাকে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বৈদেশিক সাহায্য নির্ভর প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হতে গড়ে সময় লাগে ৬ বছর।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের মধ্যে ২২ শতাংশ ছাড় করার উদ্যোগ নিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। এটি ক্রমান্বয়ে ২৫ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত করার সময় গড়ে ৪ বছর করা যায়।

প্রকল্প বিলম্বে ৫ কারণ প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে ৫টি কারণ রয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, জনবল নিয়োগে বিলম্ব, ভূমি অধিগ্রহণে বিড়ম্বনা, ডিপিপি-পিপিপি প্রণয়নের পর অনুমোদনে বিলম্ব, পণ্য ও সেবা সংগ্রহে বিলম্ব। এছাড়াও অনেক সময় উন্নয়ন সহযোগীদের জন্য দেরি হয়ে থাকে, কারণ তাদের কাছ থেকে অনাপত্তি নিতে হয়। পরামর্শক নিয়োগেও দেরি হয় এবং ছাড়পত্র পেতে বিলম্ব হয়।

প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে মনিটরিং, ত্রিপক্ষীয় সভা এবং প্রকিউরমেন্ট আগে থেকেই তৈরি করে রাখার জন্য সুপারিশ করা হয় মন্ত্রিসভায়।

জেআই