নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ী পুরুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে স্থানীয়রা ধান মাড়াই করছেন ও খড় শুকাচ্ছেন। এ কারণে শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধূলা করতে পারছে না । এ মাঠেই খেলেছেন জাতীয় ফুটবল দলের সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডার কালিয়ার কৃতি সন্তান আবু ইউসুফ ও জাতীয় ক্রিকেট দলের (নির্ধারিত ওভারের) অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা।

এ নিয়ে এলাকার ক্রীড়ামোদিদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, পুরুলিয়া ইউনিয়নের দাড়িয়াঘাটা মৌজার ৯০, ৯১, ৯২, ৯৩ ও ৯৪ দাগে মোট ৩ একর ২৫ শতাংশ জমির বিশাল অংশজুড়ে খেলার মাঠ ছিল। কালক্রমে এর একটি অংশ বেদখল হওয়ায় মাঠটির স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যহত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নড়াইল-কালিয়া সড়কের পাশেই বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ। মাঠের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে খড় শুকাচ্ছেন স্থানীয় রাহিলা, জায়েদা বেগম, ও জয়নাল আবেদীন সহ বেশ কয়েকজন কৃষক-কৃষাণী।

মাঠের পূর্ব পাশে মেশিনে ধান মাড়াই করছেন কুষ্টিয়া থেকে আগত কতিপয় শ্রমিক। পশ্চিম পাশে একটি পরিত্যক্ত গুদাম। দক্ষিণ পাশে কোন একটি সভা/সমাবেশের প্যান্ডেল করার জন্য অসংখ্য বাঁশপুতে রাখা আছে। উত্তর পাশে চাঁচুড়ী বাজার। মাঠের উত্তর-পশ্চিমাংশের বেশ কিছুটা জায়গাজুড়ে ২০০৯ সালে নভেম্বরে পুরুলিয়া ইউপি ভবন নির্মাণ করা হয়।

ফলে বর্তমান এ মাঠটি খেলার একেবারেই অনুপযোগী অবস্থা। অপরিচিত কোন লোক দেখলে মনে করবেন এটা শস্য ক্ষেত। অথচ এ মাঠে পার্শ্ববর্তী ১৫ গ্রামের  ছেলেরা ফুটবল, ভলিবল, ক্রিকেট খেলে। এ মাঠে প্রতিবছর ফুটবল ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। এলাকাবাসী ও চাঁচুড়ী পুরুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, প্রতিবছর ধান কাটার পরে স্থানীয়রা মাঠে ধান মাড়াই করেন। এমকি ধান ও খড় শুকানোর কাজ করেন। নিষেধ করে কোনো ফল হয়নি।

৯ম শ্রেণির ছাত্র নাইম ও দশম শ্রেণীর ছাত্র আজিজ জানায়,‘মাঠের মধ্যে খড় গাঁদা থাকায় খেলাধূলা করা যায় না। চাঁচুড়ী ইউনিয়ন আ’লীগ নেতা ও বিজিবি থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দিতাকারী খেলোয়াড় লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা হায়দার মোল্যা বলেন, সারা মাঠ জুড়ে ফসলের কাজ করা হচ্ছে। নিষেধ করলেও শোনেন না।’

ধান ও খড় শুকানোর সঙ্গে যুক্ত চার-পাঁচজন কৃষক-কৃষাণি বলেন,‘ মাঠটি খালি পড়ে থাকে। তাই এ সময় তারা ফসল নেয়ার কাজ করেন। এলাকার সব থেকে পুরানো মাঠ এটি । মাঠ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগের শেষ নেই। মাঠের প্রাচীর দেয়া নেই। তাই মাঠের কিছু অংশ দখল হয়ে গেছে। এরপর আবার মৌসুমি ফসলের কাজের জন্য প্রায় সারা বছরই মাঠটি বেদখল থাকে। সচেতন মহল এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এমই/ রিন্টু