শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা কার্যক্রমের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে শুক্র ও শনিবারসহ গ্রীষ্মকালীন ছুটির সাতদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাড়তি ক্লাস নেওয়া হবে। তবে সকলের জন্য এটা প্রযোজ্য হবে না। যেখানে ক্ষতি হয়েছে সেখানে বাড়তি ক্লাস হবে।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, হরতাল-অবরোধসহ রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষয়-ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন রুটিন তৈরি করা হবে। গ্রীষ্মের ছুটিতে সাতদিন বাড়তি ক্লাসের পাশপাশি বৃহস্পতিবার ক্লাস অর্ধদিবসের পরিবর্তে পূর্ণদিবস করা হবে। প্রতিদিন ক্লাসের পর অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া হবে। এতে ছাত্ররাও আন্তরিক হবে। প্রধানমন্ত্রী সময় দিলে চলতি মাসের শেষ দিনে এসএসসির ফল প্রকাশ করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী।

নাহিদ বলেন, সারাদেশে এ বছরের প্রথম তিন (জানুয়ারি-মার্চ) মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ছেলে মেয়েরা আতংকের মধ্যে ছিল। মানসিক চাপের মধ্যে ছিল। নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এজন্য আগামী ৪০ বছর জাতিকে খেসারত দিতে হবে। এ ক্ষতি আস্তে আস্তে পুষিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় সব জায়গায় সমমানের ক্ষতি হয়নি। খুব কম জায়গায় বেশি ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটির সদস্যরা দায়িত্বশীল ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের নকলের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্যাকেট খুলে প্রথম প্রশ্নটাই তারা বাইরে পাঠিয়ে দেন। উত্তর তৈরি করে তা পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ওই ধরনের শিক্ষকদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরই মধ্যেই কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। যারা এ ধরনের কাজ করেছেন, তাদের কেউই রেহাই পাবেন না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কেএইচ