চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-সচিব মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে নিয়োগ বাণিজ্য ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন দুকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা।
আজ বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মীর মো: জয়নুল আবেদীন শিবলী টানা ৭ মাসের অনুসন্ধান শেষে দুদকের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ প্রতিবেদন দাখিল।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ওয়াসায় নিয়োগের ক্ষেত্রে উপ-সচিব জাহাঙ্গীর আলমের কোনো ভূমিকা ছিলো না। তিনি নিয়োগ কমিটির কোনো কর্মকর্তা ছিলেন না। নিয়োগে জেলা কোটা অমান্য করার মতো ক্ষমতা কিংবা দায়িত্ব তার ছিলো না। পদবি অনুসারে ক্ষমতার অপব্যবহারের ক্ষমতাও তার নেই। অনুসন্ধানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সম্পৃক্ত থাকার কোনো প্রমাণ মেলেনি।
অনুসন্ধান কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে প্রাপ্ত অভিযোগটি নথিভুক্তির মাধ্যমে উপ-সচিব জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দানের সুপারিশ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সমুদয় অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং প্রতিহিংসা মূলকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন জায়গায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি চট্টগ্রাম ওয়াসার নিজস্ব তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার রেকর্ডপত্র প্রদর্শন করেন। এসব পর্যালোচনা শেষে দুদক কর্মকর্তা অনুসন্ধানটি নথিভুক্তির সুপারিশ করেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে লোক নিয়োগ, পদোন্নতি বদলি ও ঘুষ বাণিজ্যের। আর লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের নিজ এলাকার লোকজনকে প্রাধান্য দেয়া হয়।শুধু তাই নয়,চট্টগ্রাম ওয়াসায় লোক নিয়োগে কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। ওয়াসায় রাউজান উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী ফারহানা জেবিন, স্টোরকিপার সাইফুদ্দিন চৌধুরী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশেদুল হাসানকে নিয়োগ দিয়েছেন। এদের কাছ থেকে তিনি মোটা অঙ্কের ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে অরো বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের জুলাই মাসের নিয়োগ পরীক্ষায় উপ-সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর শ্যালক মো. শোয়াইব খানকে চট্টগ্রাম ওয়াসার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ছাড়াই রাজস্ব তত্ত্বাবধায়ক পদে নিয়োগের চেষ্টা করেন।পরবর্তী সময়ে ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন মহলের দৃষ্টিগোচর হলে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত ঘোষণা করা হয়। আর বর্তমান শোয়াইব খান চট্টগ্রাম ওয়াসায় দৈনিকভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কর্মরত।
ওয়াসার বিক্রয় শাখার সহকারী পাম্প অপারেটর মো. তারেক উদ্দিনের মাধ্যমে উপ-সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ কর্মকর্তারা বিভিন্ন তদবিরের ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ করেন। কিন্ত মো. তারেক উদ্দিন একজন সহকারী পাম্প অপারেটর (এপিও) পদবির হয়েও বিক্রয় শাখায় কর্মরত আছেন।
একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-সচিব জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, কোটা সংরক্ষণ না করা,অবৈধ পদোন্নতি, আন্তঃবদলিসহ বিভিন্নভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ সম্বলিত একটি প্রতিবেদন আসে। দুদক গত মে মাসে জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ওই প্রতিবেদন অনুসন্ধান শুরু করে।
একে,





