বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্ধ দেওয়া সরকারি বিনামূল্যের ভিজিডির চাল নিয়ে চলছে লংকাকান্ড।
গত সোমবার রাতে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উখিয়ার মরিচ্যা বাজারে ৩টি চালের আড়তে অভিযান চালিয়ে ৭৮ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, উখিয়ার ৫টি ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে প্রতিমাসে পরিবার পিছু ৩০ কেজি করে সরকারি বিনামূল্যে ভিজিডির চাল বিতরণ করা হয়ে থাকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, হতদরিদ্রদের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রাক্কালে ওই তালিকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির আত্মীয়স্বজন বা একান্ত আপনজন ছাড়াও টাকার বিনিময়ে অনেক স্বচ্ছল পরিবারের লোকজনকে ভিজিডির কার্ড দেওয়া হয়েছে। ভিজিডির আওতাভুক্ত উপকারভোগীদের তালিকা নিরপেক্ষ সরকারি কর্মকর্তা দিয়ে যাচাই বাছাই করা হলে অনেক স্বচ্ছল পরিবারের নাম বেরিয়ে আসবে বলে সচেতন মহলের দাবী।
সম্পূর্ণ অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে তৈরি করা তালিকা মোতাবেক চাউল বিতরণ করা হলেও অধিকাংশ গরীব ছিন্নমূল পরিবার ভিজিডির চাল সুবিধা প্রাপ্ত থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যে কারণে ভিজিডির চাল কালো বাজারে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে চালের বাজার অস্থির হওয়ায় সরকারি প্রদত্ত চাল নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতির আশংকা করছেন অভিজ্ঞ জনেরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, ‘স্থানীয় গোয়েন্দার তথ্যের ভিত্তিতে মরিচ্যা বাজার মরিয়ম ট্রের্ডাস, পেঠান আলী সওদাগর ও ফারুক সওদাগরের চাউলের আড়তে তল্লাসী চালিয়ে ৭৮ বস্তা ভিজিডির চাল উদ্ধার করে ৩ ব্যবসায়ীর নিকট থেকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৪৯ হাজার টাকা জরিমান আদায় করেন’।
উদ্ধারকৃত চালগুলো হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের জিম্মায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সুনীল দত্ত জানান, ভিজিডি’র চাল স্থানীয় চেয়ারম্যান অথবা তার প্রতিনিধিরা খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহ নিয়ে তালিকা অনুযায়ী বিলি বন্টন করে থাকেন।
তবে নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক সাবেক মেম্বার জানান, চালের ডিও জমা দিয়ে খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে ভিজিডির চাল কালো বাজারে বিক্রির সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে পত্রিকায় সংবাদ না করতে সাংবাদিকদের ম্যানেজ উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ হরিলুট করছে। বিশেষ করে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কাবিখার শত শত টন খাদ্য কালোবাজারিদের নিকট বিক্রি করে দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা কোন কাজ না করেই কালো বাজারিদের হাতে বরাদ্ধকৃত খাদ্যশস্য বিক্রি করে দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
প্রকল্প অফিসের খাতা পত্রে মনগড়া কাজের বাস্তবায়ন হয়েছে উল্লেখ করলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সরকারের এসব বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্টরা অত্যন্ত কৌশলে সবাইকে ম্যানেজ লুট করে নিচ্ছে। শুধু তাই নয় প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা কোন কাজ না করেই কালো বাজারিদের নিকট খাদ্য বিক্রি করে নিজেদের পকেট ভারি করেছে বলে সচেতন মহলের অভিযোগ। এ ক্ষেত্রে প্রকল্প গুলো তদন্ত করলে যার কোন দৃশ্যমান অস্থিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবেনা।
এছাড়া উন্নয়নের এসব অর্থ হরিলুট হওয়ার ফলে জনসাধারণ কাঙ্খিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ৪০ দিনের কর্মসৃজনও প্রকল্পের কোটি কোটি আত্মসাত করে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একই ভাবে টিআর রিলিফ টেস্টের লক্ষ লক্ষ টাকা ভূঁয়া বিল ভাউচার ও কাল্পনিক কাগজ পত্র তৈরি করে হাতিয়ে নিচ্ছে। যেন এসব দেখার কেউ নেই।
একাধিক ইউপি সদস্য উপজেলার সমস্ত উন্নয়ন প্রকল্প কোটি কোটি টাকা একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে আত্মসাৎ করে আসছে। এসব তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। এসবের নেপথ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস, খাদ্য গুদাম কতৃপক্ষ এভাবে বছরের পর বছর উন্নয়ন কাজের অর্থ ও খাদ্য লুট করে নেওয়ার উন্নয়ন বঞ্চিত জনগণের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করতে দেখা গেছে।
যদি সরকার সহ এডিবি কর্তৃপক্ষ টিআর কাবিখা, কাবিটা ও কর্মসৃজন প্রকল্পের অর্থের যোগান দিয়ে আসছে তথাপি উন্নয়ননা করে অর্থ আত্মসাতের কারণে ভবিষ্যতে এসব উন্নয়ন প্রকল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে সহযোগীরা। এখানে কাজের নামে কোটি কোটি টাকা ও খাদ্য লুপাট করে কালো বাজারিদের নিকট বিক্রি করে আজ তারা রাতারাতি কোটিপতি।
স্থানীয়রা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও খাদ্য বিভাগের যোগসাজসে সংশ্লিষ্টরা এক প্রকার নীরবেই এসব অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। এছাড়া ডিলার হিসাবে উখিয়া ছয়তারা রাইচ মিল নামক একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানও জড়িত বলে জানা গেছে। এদিকে দূর্ণীতির সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ না করার জন্য উখিয়ার কর্মরত ১০/১২ জন সাংবাদিকদেরকে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
মানিক/এমবিএইচ





