পরিবারের কঠিন শাসন কিংবা স্কুলের ছাড়পত্র (টিসি), কিছুই টলাতে পারেনি ধামরাইয়ের কুরঙ্গি গ্রামের মেয়েটিকে। নেহাতই স্কুলছাত্রী, পড়ে স্থানীয় নান্নার-সুয়াপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীতে। অতশত ভাবার বয়সও নয়, শেষে প্রেম বাঁচাতে সিদ্ধান্ত নেয় অনশনের। তাও আবার প্রেমিকের বাড়িতে!
শনিবার প্রেমিকা স্কুলছাত্রী প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করে।
এলাকাবাসী জানায়, ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের উত্তর শ্রীরামপুর গ্রামের মো. মজিবর রহমানের ছেলে মো. রিপন মিয়ার সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাঝে মধ্যেই কিশোর প্রেমিক স্কুল চলাকালীন তার প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গেলে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ওই প্রেমিকযুগলকে সাবধান করার পরও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। এজন্য গত বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে মেয়েটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে ছাত্রীর বাবা-মা তাকে কঠিন শাসনের মধ্যে রাখেন।
শনিবার সকাল ৯টার দিকে মেয়েটি স্থানীয় আমিন নামে এক কিশোরের সহায়তায় তার প্রেমিক রিপনের বাড়িতে ওঠে। এরপর সে বিয়ের জন্য প্রেমিককে চাপ দিলে, বিয়েতে রাজি না হয়ে রিপন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে, স্কুলছাত্রী বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করলে ওই বাড়ির লোকজনও ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।
জানা যায়, অনশনরত স্কুলছাত্রীকে বাড়ি থেকে তাড়াতে ইউসুফ আলী নামে এক প্রতিবেশী তার সঙ্গে নানা ধরনের অসাদাচরণ, অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও ধমক দেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছে মেয়েটি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইমদাদুল হক জানান, মেয়েটিকে বাড়িতে রেখে রিপনের মা-বাবা ঘরে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
এ বিষয়ে স্কুলছাত্রীর ভাষ্য, ভালোবাসার অপরাধে তাকে স্কুল এবং তার বাবা-মা বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায়, বিয়ের দাবিতে সে অনশন করার পরিকল্পনা করে।
এএইচ





