১৯৫৪ সালে একদিন মোহাম্মদ আলীর বাইসাইকেল চুরি হয়ে যায়। অনেক খুঁজেও না পেয়ে তার মেজাজ বিগড়ে যায়। এরপর তিনি ছুটে যান থানায়। সেখানে মার্টিন নামের এক পুলিশ অফিসারকে বলেন, চোরকে ধরে তিনি আচ্ছামতো পেটাতে চান। সৌভাগ্যক্রমে সেই পুলিশ অফিসার ছিলেন বক্সিং কোচ। তখন তিনি জবাব দেন, চোর ধরার জন্য তাকে লড়াই করতে হবে।

পরদিন থেকেই আলী মার্টিনের কাছে বক্সিং শিখতে শুরু করেন। আলী প্রথম দিনই কোচের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন। তিনি বুঝতে পারেন বক্সিং দুনিয়াকে চমকে দেওয়ার জন্যই এই ছেলের জন্ম হয়েছে। তার এই অনুমান ভুল হয়নি। আলী প্রথম পেশাদার লড়াই জেতেন ১৯৬০ সালের ২৯ অক্টোবর। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত টানা ১৯টি লড়াই জেতেন তিনি। এর মধ্যে ১৫টিতে জেতেন প্রতিপক্ষকে নকআউট করে।

মোহাম্মদ আলীর লড়াই :

* অপেশাদার মুষ্ঠিযোদ্ধা জীবনে ১৯৬০ সালে রোম অলিম্পিকে মোহাম্মদ আলী লাইট হেভিওয়েট স্বর্ণপদক জয় করেন

* ১৯৬০ সালের ২৯ অক্টোবর টানি হানসাকারকে পরাজিত করে মোহাম্মদ আলী পেশাদার লড়াইয়ের প্রথম জয় পান।

* ১৯৬০ থেকে ১৯৬৩ সালের মধ্যে আলীর জয়ের রেকর্ড ১৯-০

* ১৯৬৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সনি লিস্টনকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন হন মোহাম্মদ আলী

* ১৯৬৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মুষ্টিযুদ্ধের ইতিহাসে কদর্যময় লড়াইয়ে আর্নি টেরেলকে হারিয়ে আলী জয়ী হন।

* ১৯৭০ সালে দণ্ডাদেশ বাতিল হলে রিংয়ে নামার সুযোগ পেয়েই জর্জিয়ায় জেরি কুয়ারিকে হারিয়ে আলী প্রত্যাবর্তন করেন।

* ১৯৭১ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্কে প্রবল প্রতিপক্ষ জো ফ্রেজিয়ারের কাছে আলী হেরে যান। এটিই পেশাদার লড়াইয়ে আলীর প্রথম পরাজয়।

* ১৯৭৪ সালের ১ অক্টোবর ম্যানিলায় জো ফ্রেজিয়ারকে হারিয়ে আলী পুনরায় হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন হন।

* ১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর জায়ারেতে জর্জ ফোরম্যানকে পরাস্ত করেন মোহাম্মদ আলী। এই লড়াইটি ‘রাম্বেল ইন দ্য জঙ্গল’ নামে খ্যাত।

* ১৯৮০ সালে মোহাম্মদ আলী তারই ছাত্র ল্যারি হোমসের সঙ্গে লড়াইয়ে নামেন। লড়াইয়ে ১১ রাউন্ড পর তিনি পরাজিত হন।

* ১৯৮১ সালে শেষবারের মতো লড়াইয়ের রিংয়ে নামেন আলী। হেরে যান ট্রেভর বারবিকের কাছে।

* পেশাদার মুষ্টিযোদ্ধা জীবনে আলী হেরেছেন ৫ বার, বিপরীতে জিতেছেন ৫৬ বার, ৩৭ বার তিনি নক আউট ছিলেন।

এফএফ