হাতে মেহেদীর রং এখনো ঠিকমত মুছেনি। স্বামীর সংসারে থেকে স্বপ্নময় পৃথিবীটা বুঝার আগে ঘাতক স্বামীর হাতে প্রাণ গেল গৃহবধূ নার্গিস আক্তারের।

নার্গিস ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের শাহজাহানের কন্যা। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল পারিবারিক ভাবেই বিয়ে হয় ফরহাদ নগর ইউনিয়নের কাটা মোবারক ঘোনা এলাকার ভূঞা বাড়ির ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আবু ইউসুুফের সাথে।

নার্গিসের পরিবার জানায়, বিয়ের কিছু দিন পর থেকে ইউসুফ ও তার পরিবারের লোকজন নার্গিসের উপর বিভিন্ন কারণে নির্যাতন শুরু করে। লোভী ইউসুফ গত মাস থেকে নার্গিশের কাছ থেকে যৌতুক দাবী করে। কিন্তু নার্গিস যৌতুক প্রদানে অস্বীকার করলে তার উপর কয়েক দফা নির্যাতন করা হয়।

সুত্র জানায়, ইউসুফ পরকিয়া প্রেমে আসক্ত এ বিষয়টি জানতে পেরে নাগিস স্বামীকে জিজ্ঞাসা করলে তার উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূঞা বাড়ীর এক গৃহবধু জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নার্গিসের সাথে তার স্বামীর ঘরের লোকজনের ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে তারা নার্গিসকে গলাচেপে হত্যা করে লাশ ঘরের সিলিং এর সাথে ঝুলিয়ে রাখে।

শুক্রবার সকালে নার্গিসের পিতার বাড়ী থেকে বার বার ফোন করলেও ফোন রিসিভ না হওয়াতে তাদের সন্দেহ হয়। এক পর্যায়ে তারা বোগদাদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশকে সাথে নিয়ে নার্গিসের শ্বশুর বাড়ীর তালাবদ্ধ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার করে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর পরিবারের সবাই পালিয়ে গেছে।

ফেনী মডেল থানার ওসি মাহবুব মোরশেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এম এ