‘আমাদের সংবিধানে শিক্ষা, সরকারি কাজকর্ম, উন্নত তথ্য-প্রযুক্তি ও জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে ভাষা ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমাদের শিক্ষিত শ্রেণীর প্রাণে জাতীয় এ আহ্বান সাড়া জাগায় না।’
অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে ‘অমর একুশে বক্তৃতানুষ্ঠান-২০১৫’ তে শনিবার বিকেলে ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক এ সব কথা বলেন।
বাংলা একাডেমি আয়োজিত ‘ভদ্রলোক-রাজনীতি ও শ্রেণী চেতনার আলোকে ভাষা-আন্দোলন’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে আহমদ রফিক বক্তব্য রাখেন। বাংলা একাডেমির সভাপতি এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।
সর্বস্তরে বাংলা ব্যবহারে শিক্ষিত শ্রেণীর প্রাণে সাড়া না জাগার কারণ ব্যখ্যা করেন আহমদ রফিক। তিনি বলেন, ‘এর বড় কারণ এই শ্রেণীর মিশ্র চেতনা ও শক্তিমান শ্রেণীস্বার্থ। পরিস্থিতির সার্বিক বিচারে একমাত্র বিপ্লবী শ্রেণীসংগ্রামই বিরাজমান অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে শ্রেণীবৈষম্য দূর করতে পারে।’
আহমদ রফিক বলেন, অবিভক্ত ভারতে বিশেষভাবে বঙ্গে ভদ্রলোক শ্রেণী সর্বজনীন জাতীয় আন্দোলনগুলোর সুফল পুরোপুরি ভোগ করেছে শাসনক্ষমতা হাতে পেয়ে। সে ধারাবাহিকতায় ওই একই শ্রেণী এদেশেও ভাষা আন্দোলনসহ সব গণআন্দোলন ও একাত্তরের লড়াইয়ের সর্বমাত্রিক সুবিধাভোগী। ভাষা আন্দোলনের সুফল, ইতিবাচক উত্তরপ্রভাব মূলত গণআন্দোলনের ব্যাপকতায়। কিন্তু ‘গণ’ এর সুফল ভোগ করতে পারেনি; পারেনি উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রেও।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ভাষা আন্দোলন-উদ্ভূত জাতীয়তাবাদী চেতনা ছিল ধর্মনিরপেক্ষ। তাই স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানেও রাষ্ট্র ও সমাজে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান সংবিধানকে ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে যেমন দূরে সরিয়ে দিয়েছে তেমনি দেশের সব মানুষের সার্বিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণ কবে ঘটবে তা বলা কঠিন। তবে শেষ পর্যন্ত বাঙালি ও বাংলাদেশ শুভচেতনার দিকে যাত্রা করবে বলে আশা করা যায়।
শামসুজ্জামান খান বলেন, ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির মাঝে দীপ্ত চেতনার জন্ম দিয়েছিল। চর্যাপদের যুগ থেকে বাঙালি মাতৃভাষার বিরুদ্ধে সমস্ত চক্রান্ত বীরদর্পে রুখে দিয়েছে। এরই চূড়ান্ত প্রকাশ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের অমর চেতনায় আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ লাভ করেছি। অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে এই দেশ এক অনন্য প্রতিশ্রুতির নাম।
সন্ধ্যায় ফকির সিরাজের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী’ এবং স্টেপ মিডিয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। এতে সংগীত পরিবেশন করেন ফকির আলমগীর, রফিকুল আলম, আবদুল হালিম খান, শিবু রায় এবং সঞ্জয় কুমার দাস।
এএইচ





