খুলনার তিনটি উপজেলায় বজ্রপাতে নারীসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে আরো ছয়জন।
রোববার ভোর থেকে দিনের বিভিন্ন সময়ে বজ্রপাতে মৃত্যুর এই ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে কয়রা উপজেলায় দুইজন, পাইকগাছায় দুইজন এবং বটিয়াঘাটায় একজন।
এ ছাড়া বজ্রপাতে অসংখ্য গাছপালা ঝলসে গেছে। আর ভারি বৃষ্টিপাতে খুলনার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে কাঁচা ঘর-বাড়ি। অনেক এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সমসের আলী জানান, কয়রার মঠবাড়ি গ্রামে বজ্রপাতে মুরাদ গাজী (৩৩) ও তার মেয়ে মুসলিমা আক্তার সোনালী (৫) নামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
তিনি জানান, সকালে ঘরের বারান্দায় বাবা ও মেয়ে বসেছিল। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে সোনালীর মাও আহত হয়েছে। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, ভোরে উপজেলার খুরিয়া গ্রামে ঘরের মধ্যে মান্নান গাজী (৪৫) ও পাত্রাবুনিয়া গ্রামে আব্দুল মালেক (৪৮) নামে দুই ব্যক্তি বজ্রপাতে নিহত হয়েছে। এ ছাড়া বজ্রপাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আরো পাঁচজন আহত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ছাড়া বটিয়াঘাটা উপজেলার দারোগার ভিটা এলাকায় বজ্রপাতে আমেনা বেগম (৩২) নামে এক নারী নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এ সময় দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামে চারটি গরু নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
খুলনায় শনিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত স্মরণকালের সর্বাধিক বজ্রপাত হয়েছে। বজ্রপাতে শত শত গাছ ঝলসে গেছে। একই সাথে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিতে খুলনার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে কাঁচা ঘর বাড়ি। অনেক এলাকা এখনও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৯টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি চলতি বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। খুলনার নদীবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।
খুলনা জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ জানান, বঙ্গোবসাগরে সৃষ্ট গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার কারণে সমুদ্রে ঝড়ো হাওয়া তৈরি হয়। যার সঙ্গে পশ্চিমা লঘুচাপের সংমিশ্রণের কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে প্রবল বজ্রপাত হয়েছে।
এমআর





