বন আইনকে আদিবাসীবান্ধব হতে হবে উল্লেখ করে পরিবেশবিদরা বলেছেন, আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা করে বন আইন করতে হবে। এছাড়া আদিবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ আইন করতে হবে বলেও জানান তারা।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘বন আইন ১৯২৭ এর সংশোধনীর প্রস্তাব (২০১৫) এবং বন সংশ্লিষ্ঠ জনমানুষের অধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে এএলআরডি, বেলা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলন।

আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজ্ওয়ানা হাসান এবং পর্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা।

সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেন, বন সংশোধনী আইন, ২০১৫ এর ক্রমিক নং ৩ এ বনের সংজ্ঞায় বৃক্ষাচ্ছাদন, জীববৈচিত্র্যের সম্ভার ইত্যাদীসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক, সাংস্কৃতিক ও প্রথাগত বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে সরকার ও বন বিভাগের নিয়ন্ত্রনাধীন ঘোষিত এলাকাকে বন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এ জতায় সংজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক। যা সংরক্ষণের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্য নয়।

অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, আদিবাসীদের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, চলফেরা, কৃষ্টি-কালচারে যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রেখে নতুন বন আইন করা প্রয়োজন। অদিবাসীদের অধিকার রক্ষা করেই বন সংরক্ষণ করতে হবে।

আলোচনায় পর্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা বলেন, আদিবাসীদের জীবন, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যত্মিকতার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বন ও ভূমি। সর্বত্রই আদিবাসীরা বন ও ভূমিকে পবিত্র হিসেবে গণ্য করে। তাই বন আইন করার ক্ষেত্রে আদিবাসীদের প্রস্তাবকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি গৌতম দেওয়ান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইয়াসিন আলী এম.পি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এএলআরডির চেয়ারপার্সন খুশী কবির।

এমআইএস