বরিশালের বিনয়কাঠীর সুগন্ধিয়া বাজারে হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী অঘ্রান মেলা। সুফিসাধক একিন শাহ্ স্মৃতি ঘিরে প্রতিবছর ১ অঘ্রান (অগ্রহায়ণ) এখানে বসে এ মেলা। কলাপাতায় নারকেলের শিরনি খাওয়া এই মেলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য। হাজার হাজার মানুষ লাইন ধরে বসে শিরনি খায়। ভক্তিগীতি এই মেলার একটি বিশেষ আকর্ষণ। গ্রামীণ পরিবেশে রাতভর চলে ভক্তিগীতির অনুষ্ঠান। এর টানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসে হাজার হাজার মানুষ।

বিনয়কাঠীর জালালকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী খসরু বলেন, ধর্ম প্রচারের জন্য ইয়েমেন থেকে এসেছিলেন একিন শাহ্ ও শাহাদাৎ শাহ্ নামের দুই ভাই। হজরত শাহ্ জালাল (র.)-এর সাথে যে ৩৬০ জন সুফিসাধক বাংলায় এসেছিলেন একিন শাহ্ ও শাহাদাৎ শাহ্ ছিলেন ওই দলের সদস্য।

সুগন্ধিয়া গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব মো. মহসিন তালুকদার বলেন, তিনি তার দাদা গণি তালুকদারের কাছে শুনেছেন, সরদার বাড়িতে আশ্রয় নেন শাহাদাৎ শাহ্। অন্যদিকে প্রমত্তা সুগন্ধা নদীর তীরে আস্তানা গাড়েন একিন শাহ্। তারাই এই সুগন্ধিয়ার হাট গড়ে তোলেন। একসময় স্থানীয় শরীফ বাড়ির নয়ন শরীফকে নিয়ে ফের ইয়েমেনে চলে যান একিন শাহ্। তিনি আর ফিরে আসেননি। সেই থেকে একিন শাহ্ স্মৃতিবিজড়িত বৈঠকখানা হয়ে ওঠে পুণ্যস্থান। নয়ন শরীফের উত্তরসূরিরা বংশপরম্পরায় শাহাদৎ শাহ্ মাজার ও একিন শাহ্ কাচারির খাদেমের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শরীফ পদবি ছাপিয়ে তারা এখন ‘ফকির’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন বলে জানালেন বর্তমান খাদেম আ. রব ফকির।

সুফিসাধক অকৃতদার এই দুই ভাইয়ের নানা ধরনের অলৌকিক ঘটনা নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত আছে এলাকাজুড়ে। তাদের অলৌকিক ক্ষমতায় বিশ্বাস করে মাজারে এবং বৈঠকখানায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানত করতে আসেন ভক্তরা। ফি বছর পয়লা অঘ্রান ভক্তিগীতির আয়েজন করা হয় তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। ভক্তিগীতির অনুষ্ঠান কালে কালে মেলায় রূপ নেয় বলে ধারণা করা হয়।

প্রায় ৪০ হাজার দর্শনার্থী আসে মেলা উপলক্ষে। অনেকে নৌকা ভরে নিয়ে আসে মানতের শিরনি। হাজার হাজার মানুষ রোগমুক্তি বা অন্য কোনো মনোবাসনা পূরণের আশায় এই শিরনি খায়।

ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় গিয়ে দেখা যায়, শিশু থেকে ৯৪ বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা এসেছেন। আয়নাল হক বয়াতি ৮৩ বছর ধরে এই মেলায় একিন শাহর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বলে জানালেন।

মেলা উপলক্ষে নানা ধনরের পসরা নিয়ে এসেছেন ঝিনাইদহ, যশোর, রাজশাহী, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা। স্বরূপকাঠী ও রাজাপুর উপজেলা থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন তৈজসপত্র নিয়ে এসেছেন অনেক ব্যবসায়ী। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা ও মাটির তৈরি বাহারি অনেক রকমের খেলনা। হরেক রকমের মিষ্টির দোকান এই মেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

জেআই