চরম সামাজিক দলাদলি ও বিরোধপ্রবণ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় গত নয় মাসে পাঁচজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদল হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নেই।

ঘন ঘন ওসি বদল করেও শৈলকুপার গ্রামগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সামাজিক দলাদলির কারণে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই আছে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সগির মিঞা জানান, ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে শৈলকুপায় পাঁচজন ওসি বদল হয়েছেন।

তিনি জানান, বছরের প্রথম মাসে ঝিনাইদহ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক আশরাকুল বারীকে শৈলকুপার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে বদলি করা হলেও তিনি দুই মাসের মাথায় বদলি হয়ে চলে যান।

এরপর পর্যায়ক্রমে আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মোল্লা ও ইকবাল বাহার চৌধূরী শৈলকুপা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পুলিশ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় ওসি আনোয়ার হোসেনকে ২৫ দিনের মাথায় স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।

আনোয়ার হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হন মনিরুজ্জামান মোল্লা। তিনি অসততা ও শৈলকুপা উপজেলার হাটফাজিলপুর আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও ভাঙচুর থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় দায় নিয়ে বদলি হন।

ওসি মনিরুজ্জামান মোল্লার পরিবর্তে ২০১৪ সালের মে মাসে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার চৌধূরীকে শৈলকুপার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়।

যোগদানের পর তিনি সামাজিক দলাদলি প্রবণ শৈলকুপার বিভিন্ন গ্রামে আইনশৃংখলা উন্নয়নে বৈঠক করে ঢাল- ভেলা, সড়কিসহ দেশীয় অস্ত্র সমর্পনের ব্যবস্থা করেন।

কিন্তু শৈলকুপার সিংনগর গ্রামে গত নয় আগস্ট সংঘর্ষে আবু সাইদ নামে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় ওই দিন তাকে ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।

শৈলকুপায় মাত্র নয় মাসে পাঁচজন ওসি বদল হওয়ার ঘটনা নিয়ে বর্তমান দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সগির মিঞা জানান, সরকারি দলের নেতাদের আন্তরিকতার অভাবে শৈলকুপায় ঝগড়া-বিবাদ লেগেই আছে।

তিনি আরো জানান, প্রাকৃতিক কারণে শৈলকুপার মানুষ আবেগপ্রবণ হওয়ায় সংঘর্ষ ও সংঘর্ষের পর বাড়িঘর ভাঙচুর লুটপাট করা শৈলকুপায় একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।

শৈলকুপা থানার সেকেন্ড অফিসার আশিকুর রহমান জানান, শৈলকুপার কয়েকটি ইউনিয়নে সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ হয়।

তিনি জানান, কয়েক দিন আগে হামিকপুর ইউনিয়নের বরিয়া গ্রামে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ মোল্লা ও আকা ডাক্তার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হন।

ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ