আবহাওয়া অধিদফতরের সবশেষ তথ্যমতে, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে।
মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সুমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, সব ধরনের নৌ-যান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থান করা সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের ভয়াবহতার শঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বরিশাল বিমানবন্দর বন্ধে সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
বাগেরহাট উপকূলে ভারি বৃষ্টি, সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লালুয়া, চম্পাপুর ও ধানখালী ইউনিয়নের প্রায় আট-দশটি গ্রাম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
খুলনা উপকূল অঞ্চলের মানুষেরও ঘুম কেড়ে নিয়েছে সিত্রাং। কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের আংটিহারা, চরামুখা, জোড়সিং ও গোলখালী এলাকা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার বয়স্ক ও শিশুদেরকে সাইক্লোন শেল্টারে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, আজ সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানবে এবং কাল সকাল ৬টা থেকে ৭টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান ।
প্রসঙ্গত, ১৯৭০ সালের ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় হয়েছিল। এতে প্রাণ হারিয়েছিল সাড়ে ৫ লাখ মানুষ। ১৯৮৮ সালের নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়ে পাঁচ হাজার ৭০৮ জন, প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারায় ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে । ১৯৯৭ সালের মে মাসে বাংলাদেশের সীতাকুণ্ড ও এর আশেপাশের এলাকা ১৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।
এছাড়াও বুলবুল (নভেম্বর, ২০১৯), ফণী (মে, ২০১৯), মোরা (মে, ২০১৭), রোয়ানু (মে, ২০১৭), কোমেন (জুলাই, ২০১৫), মহাসেন (মে, ২০১৩), আইলা (মে, ২০০৯), বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে এবং ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। কাছাকাছি সময়ের মধ্যে (নভেম্বর, ২০০৭) আঘাত হানা সবচেয়ে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’। সিডর এবং তার প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারায়।
এমআই





