বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সরোয়ার হোসেন হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে আদালত চারজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকালে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামান এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- মোরেলগঞ্জ উপজেলার ছাপড়াখালী গ্রামের লাভলু খাঁ ও আল আমিন হাওলাদার, পশ্চিম বহরবুনিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান হাওলাদার ওরফে হাবি ডাকাত এবং সূর্যমুখী গ্রামের বেল্লাল হোসেন হাওলাদার। আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। তাঁরা সবাই পলাতক।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া পশ্চিম বহরবুনিয়া গ্রামের হারুন শেখকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে দুলাল হোসেন, মাসুম হাওলাদার, উজ্জ্বল হোসেন হাওলাদার, লাভলু কাজী, মিজানুর রহমান ও মোস্তাফিজুর রহমান নামের ছয়জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। হারুন শেখসহ সাতজন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, জমি ও চিংড়ি ঘের সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দণ্ডপ্রাপ্তরা সরোয়ার হোসেন হাওলাদারকে ২০০৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার উত্তর ফুলহাতা গ্রামের বাড়ি থেকে ডেকে নেন। পরে তাঁকে পশ্চিম বহরবুনিয়া গ্রামের বয়ারসিংগা খালের পাড়ে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেন। ভোর রাতে তাঁর লাশ উদ্ধার করে স্বজনেরা। পরদিন নিহতের স্ত্রী ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মোরেলগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালত ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপ‌ক্ষে মামলা পরিচালনা করেন মোহম্মদ আলী। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আব্দুল জলিল ব্যাপারী।

কেএইচ