বৈশ্বিক মহামারী কোভিট-১৯ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি রোধে লকডাউন এলাকার কর্মহীন ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে ইউনিটি ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (ইউ এইচ ডি)।
ঢাকা ও রাজবাড়ী জেলায় খাদ্য সহায়তা ছাড়াও আরো বেশ কিছু সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে ইউএসডি ২০ জন স্বেচ্ছাসেবী কর্মী ও উদ্যোক্তা। তাদের নেতৃত্বে অসচ্ছলদের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার শতাধিক ক্ষুধার্ত কুকুরের খাবারের ব্যবস্থা করছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির কর্মকাণ্ডের মধ্যে করোনা ভাইরাসের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে পাঁচ শতাধিক পরিবারকে ফুড প্যাকেজ প্রদান করা হয়েছে। প্রতিটি প্যাকেজে চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ছিল। এছাড়া রাজধানীর বাহিরে ফরিদপুর জেলায়় প্রায় দুই শতাধিক পরিবার কেউ একই ধরনের ফুড প্যাকেজ প্রদান করা হয়েছে।
বিতরণ করা এসব পরিবারের মধ্যে রিকশা চালক, দিনমজুর, হোটেল শ্রমিক, হকার, পথশিশু, ট্যানারি শ্রমিকসহ সকলেই নিম্নআয়ের লোকজন। যারা দিন আনে, দিন খায়। করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের চলমান লকডাউনের কারণে যাদের রোজগার প্রায় দেড় মাস যাবত বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে করোনা ভাইরাস মোকাবেলার অগ্রসৈনিক সেবিকা, ওয়ার্ড বয় ও চিকিৎসা সেবা প্রদানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জড়িত এমন নিম্ন ও মধ্যআয়ের শতাধিক ব্যক্তিকে প্রস্তুতকৃত পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।
করোনা ভাইরাস মোকাবেলা ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে রাজধানীর হাজারীবাগে একটি করোনা সেল গঠন করেছে ইউনিটি ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (ইউ এইচ ডি। যেখানে সব বয়সের মানুষ করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা মূলক বিভিন্ন সেবা পাচ্ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গলি ও রাস্তা জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ভাইরাসের সংক্রমণে বাড়তে পারে এমন জায়গা চিহ্নিত করে জীবাণুনাশক ছিটানো হয়েছে।
সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা শুধু যে মনুষ্যত্বের জয়গান গান তাই নয়। লকডাউন পরিস্থিতির এ সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে বসবাস করা শতাধিক কুকুরকে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। মোঃ সুমন, রবিউল আউয়াল বাবু, মোঃ আরমান, কামরুল হাসান ও আশরাফুল সুমনের নেতৃত্বে আরো পনের জন স্বেচ্ছাসেবীসহ মোট বিশজনের টিম দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
চলতি রমজানে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আড়াইশো পরিবারকে সেহরী ও ইফতার সামগ্রী ছোলা, বুট, মুুুরি, বেসন তেলসহ ইফতারের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যার প্রতিটি প্যাকেজে ৫৫০ টাকার খাদ্য সামগ্রী থাকবে।
এছাড়া রমজানের মাঝামাঝিতে আরো দুই শতাধিক পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করার পরিকল্পনাও প্রক্রিয়াধীন। আসন্ন ঈদুল ফিতরে ছিন্নমূল শিশুদের জন্য ঈদ পোশাক ও নতুন জামা প্রদানের ও পরিকল্পনা নিয়েছে ইউনিটি ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট।
জানতে চাইলে সংগঠনের আহ্বায়ক মো: সুমন বলেন, "দেশের এমন ক্রান্তিকালে যুবকরা এগিয়ে না এলে অসহায় মানুষেরা কোথায় যাবে। শুধুমাত্র সরকারের পক্ষে সবার দিকে দৃষ্টি দেয়া সম্ভব নয়। আমাদের মতো তরুণ ও যুবকরা এগিয়ে এলে সমাজ থেকে অনেক সমস্যা দূর হবে। তরুণ ও যুবকরা এ ধরনের সমাজকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসবে এটাই প্রত্যাশা।"
সংগঠনের আরেক আহ্বায়ক রবিউল আউয়াল বাবু বলেন, স্বচ্ছল অনেকেই সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতে চায় কিন্তু বন্টন ও নেতৃত্বে সঙ্কটে সহায়তা করতে পারেনা। আবার অনেকেই নেতৃত্ব দিতে পারেন কিন্তু আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারে না। দুটোর সমন্বয় হলেই অনেক দৈন্যদশা দূর হবে। সেই চিন্তা থেকেই আমাদের এগিয়ে আসা । আমরা পুরোপুরি সমস্যা দূর করতে না পারলেও কিছুটা লাঘব করতে পারবো।"





