গৃহবধূ রুমা আক্তারের হত্যাকারী ঘাতক স্বামী হানিফসহ ৫ আসামির কাউকে ৮দিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানা পুলিশ। পুলিশের রহস্যজনক নিরবতায় ঘাতকরা রুমার ঘর থেকে লুটে নিয়েছে মূল্যবান আসবাবপত্র।

জানাযায়, সোনারগাঁও উপজেলার বরাব নইন্নাভিটা গঙ্গাপুর গ্রামের ফজলুল হকের মেয়ে রুমা আক্তারকে (৩২) একই উপজেলার ভারগাও বাটপাড়া গ্রামের সেরাজুল ইসলামের ছেলে হানিফ মিয়া (৪০) ১২ বছর পূর্বে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের দুইটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। সন্তানদের মধ্যে একজনের নাম অনিক (৮) অপরজন সজিব (৪)। 

রুমার বাবা ফজলুল হক জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য রুমাকে তার স্বামী ও শশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করত। সম্প্রতি ৩০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য রুমার উপর বর্বর নির্যাতন চালায় হানিফ তার বাবা-মা ভাই বোনসহ তাদের বাড়ির সকলে। রুমা যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় হানিফ তার বাবা-মা ও ভাই বোনদের নিয়ে এলোপাথারী মারধর করে।

মারধরে রুমার হাত-পা, বুক ও মাথায় ইটের আঘাতে রক্তাক্ত জখম করা হয়। খাওয়ানো হয় বিষ। এরপরের দিন বিকেলে হানিফ ও তার পরিবারের লোকজন রুমাকে মৃত অবস্থায় আমাদের বাড়িতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। 

তিনি আরো জানান, রুমাকে মৃত্যুর পর তার দুই শিশু সন্তানকে আমার বাড়িতে রেখেছি। তারা এখন মায়ের জন্য কান্নাকাটি করে। নানা বুজ দিয়ে তাদের শান্ত করে রাখতে হয়। এরমধ্যে রুমার ঘর থেকে মূল্যবান আসবাবপত্র লুটে নিয়েছে তার স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজন।

গত শুক্রবার রুমার ঘর থেকে আসবাবপত্র লুটে নিতে এসে ঘাতক হানিফের খালা সাজেদা বেগম এলাকাবাসীর হাতে আটক হয়। এরপর পুলিশ এসে সাজেদাকে আটক করলেও রহস্যজনক কারনে ছেড়ে দেয়। 

এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনারগা থানার এসআই শাহ কামাল জানান, আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তদন্তও করা হচ্ছে।

এমএনজে