চলমান হরতাল-অবরোধে পুলিশের হয়রানী ও গ্রেফতার এড়াতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলরদের অনেকে তাবলিগ জামায়াতের সঙ্গে সফরে নেমেছেন। নিজ ঘরে তো দূরের কথা স্বজনদের বাড়িতেও আত্মগোপনে থাকতে না পেরে ’সেইভ জোন’ হিসেবে এ পথে অবস্থান নিয়েছেন।

এতে একদিকে নিজেদেরকে নিরাপদ এবং অন্যদিকে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ হবে বলে মনে করে চিল্লায় যোগ দিয়েছেন কাউন্সিলররা। দেশের পরিস্থিতি ভালো না হওয়া পর্যন্ত চিল্লা (৪০দিনে এক চিল্লাহ) বাড়িয়ে বিভিন্ন জেলার মসজিদে মসজিদে সময় পার করবেন বলে জানিয়েছে নির্ভর যোগ্য সূত্র।

এর বাইরেও বিএনপি সমর্থিত প্রায় দুই তৃতীয়াংশ কাউন্সিররা আবার নিরুদ্দেশ হয়ে আছেন। পরিবারের লোকজন ছাড়া কেউই জানেন না কোথায় আছেন। খুজে পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। জনসেবা চরম বিঘ্নিত হচ্ছে। কাউন্সিলরদের ভাষ্য, যদি নাশকতার সাথে জড়িত না থাকি তাহলে আমাদেরকে কেন হয়রানী করা হবে?।

সূত্র জানায়, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৩০ টি ওয়ার্ডের সংরক্ষিতসহ ৪০ জনের ২৮ জন কাউন্সিলরই বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত। এরা প্রত্যেকেই ওয়ার্ড বিএনপি অথবা মহানগর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া টানা হরতাল-অবরোধে মহানগরীতে সহিংসতা বন্ধে বিএনপি-জামায়াত নেতা কর্মিদের বাড়িতে চিরুনি অভিযান চাল্লাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।

খোজনিয়ে জানা যায়, গ্রেফতার এড়াতে সিটি কর্পোরেশনের ২৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ও কাউন্সিলর মো: হুমায়ুন কবির এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা ৩০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খায়রুল মামুন শাহিন একসঙ্গে গত একমাস আগে ঢাকা মাকরাস মসজিদ থেকে তাবলিগ জামায়াতের সঙ্গে উত্তর অঞ্চলের বিভিন্ন মসজিদে সফর করছেন। গোপনিয়তা রক্ষায় এই দুই কাউন্সিলর তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রেখেছেন বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া অন্য কাউন্সিরদের সম্পর্কে জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলতাফ মাহমুদ শিকদার জানান, বিএনপিকে সমর্থন করি বলে আমাদের বাসা বাড়িতে ডিবি পুলিশ প্রায় সময়ই তল্লাশী চালায়। গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে থাকতে হয়।

মহানগর সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ও ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান টিপু জানান, আমাদের বিরুদ্ধে নাশকতার কোন অভিযোগ নেই তার পরেও পুলিশী হয়রানীর কারণে এলাকার জনপ্রতিনিধি হয়েও সাধারণ মানুষের সেবা করতে পারছি না। বিএনপি সমর্থিত ২৮ জন কাউন্সিলরের একই অবস্থা বলেও জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আহসান হাবিব কামাল জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির কারণে অফিসিয়াল দৈনন্দিন কাজের চরম অসুবিধা হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাউন্সিলর কেন্দ্রিক অনেক কাজ থাকে, যেগুলোর সমাধান পাচ্ছেন না ।

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী বলেন, মহানগরী এলাকায় যে নাশকতা হয় তার অধিকাংশই জনপ্রতিনিধিদের ইন্দনে হয়। তাই আমরা আইনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সন্দেহভাজনদের বাড়িতে অভিযান চালাই।

এমআর, জেএ