কোরবানী ঈদকে ঘিরে নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে বিপুল সংখ্যায় গরু আসছে। এসব গরুর স্বাস্থ্যগত কোনো পরীক্ষা ছাড়াই অনুপ্রবেশ ঘটছে। চোরাচালান হয়ে আসা গরু অ্যানথ্রাক্সসহ নানা রোগ ছড়াতে পারে এমন আশংকা করছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে সীমান্ত হাটগুলোতে ভারতীয় গরুর কারবার জমে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, চোরাপথে গরু আসলেও করিডরের মাধ্যমে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে। কোরবানি ঈদকে ঘিরে নওগাঁর সাপাহার, পোরশা, ধামইরহাট, উপজেলার সীমান্তের ৬টি পয়েন্ট দিয়ে চোরাপথে প্রতিদিন কয়েক শো গরু আসছে। চোরাপথে আসা গরু চিহিৃত করে তালিকার মাধ্যমে শুল্ক ছাড় দিচ্ছে বিজিবি।

স্থানীয়রা জানান, ঈদকে ঘিরে প্রতিদিন নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে গড়ে ২২০টি থেকে ২৫০টি গরু চোরাপথে আসছে। সাপাহার উপজেলার হাপানিয়া ক্যাম্পের অদূরে কৃঞ্চসদা, কুলমু ডাঙ্গা, পাতারী, নীতপুর উপজেলার দোয়ার পাল এবং ধামইরহাট উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রাতিদিন আসছে শত শত গরু।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, কোরবানি ঈদকে ঘিরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গরু পাচারের ক্ষেত্রে বেশ নমনীয় ভূমিকা পালন করছে। এক জোড়া গরু সীমান্ত পার করলে তাকে দেওয়া হয় ১২শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ কাজ করতে গিয়ে শুধু কৃঞ্চসদা গ্রামের গেল বছর চারজনকে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে।

এসব গরু সীমান্ত পার করার পর তথাকথিত বিট বা খোয়ারে রাখা হয়। ব্যবসায়ীরা বিজিবির কাছে গরুর তালিকা দিয়ে জোরা প্রতি ৬শ টাকা দেয়। এর পর করিডর টাকা জমা দিয়ে দ্বিতীয় দফা ছারপত্র নিয়ে স্থানীয় হাটগুলোতে তোলা হচ্ছে এসব ভারতীয় গরু।

সম্প্রতি এসব চোরা গরুকে করিডরের মাধ্যম বৈধতা দেওয়ার জন্য নওগাঁর সাপাহার উপজেলার খঞ্জন পুর নামক স্থানে শুল্ক করিডর খোলা হয়েছে। যদিও খঞ্জনপুর এ শুল্ক করিডর নাম দেয়া হয়েছে। কিন্ত কাজ চলছে সাপাহার উপজেলা ডাক বাংলোতে।

অভিযোগ আছে এসব চোরা গরুর ক্ষেত্রে জোড়া ১২শ’ টাকার স্থলে ১৬শ’ টাকা নিচ্ছে এখানকার রাজস্ব কর্মকর্তারা।

এ ব্যাপারে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমীন মিঞা জানান, এমন অভিযোগ তার কাছেও এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তিনি সুপারিশ করেছেন।
এদিকে এসব গরুর অনুপ্রবেশকালে কোন স্বাস্থ্যগত পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় অ্যানথ্রাক্সসহ বিভিন্ন রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলা সিভিল সার্জন মো. আলাউদ্দিন জানান, ভারত থেকে আসা এসব গরু যে কোন সময় বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি দূর করতে সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে জোর নজরদারীর দাবি অভিজ্ঞ মহলের।

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই