চট্টগ্রাম মহানগরীর শীর্ষ পর্যায়ের দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও হাজ্বী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ। একসময় এই দুই কলেজকে বলা হতো ছাত্রশিবিরের মিনি ক্যান্টনমেন্ট।
ছাত্রশিবিরের দূর্গ খ্যাত এই কলেজ দু'টি কে ২০১৫ সালের বিজয় দিবসে ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগ সংঘর্ষে জড়িয়ে কলেজ দুটি নিজেদের দখলে নেয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
কলেজ দু'টি দখলের সময় ছাত্রলীগের মাঝে কোন গ্রুপিং না থাকলেও সময়ের পরিবর্তনে তা রুপ নেই মহিউদ্দীন গ্রুপ, নাছির গ্রুপ, টিনু গ্রুপ ও বাবর গ্রুপে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই গ্রুপ গুলো বারবার জড়িয়েছে নানা সংঘর্ষে। এমনকি নিজেদের কর্মীদের রক্তে লাল হয়েছে দুটি ক্যাম্পাস।
গত ৪ আগষ্ট চট্টগ্রাম কলেজ হতে সকল ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদ। কেন্দ্রীয় সংসদ কার্যক্রম স্থগিত করলেও সিলেট ছাত্রলীগ ইস্যুতে রাজপথে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ।
সর্বশেষ গত শনিবার ছাত্রলীগের এক সমাবেশ থেকে ক্যাম্পাস দু'টি দখলের রুপকার হিসাবে খ্যাত নূর মোস্তফা টিনুকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন মহিউদ্দীন ও নাছির গ্রুপের অনুসারীরা। বলা হচ্ছে একক শক্তিতে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে মহিউদ্দীন ও মেয়র গ্রুপের।
যুবলীগ নেতা টিনুকে প্রতিহতের ঘোষণার পরেই সেদিন বিকেলে মহসিন কলেজ ক্যাম্পাসে শোডাউন দেই টিনু। তাকে প্রতিহতের ঘোষণার ব্যাপারে তার মতামত জানতে মোবাইলে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সেই সূত্রে মহসিন কলেজের প্রভাবশালী এক ছাত্রলীগ নেতা টাইমনিউজবিডিকে বলেন, আগামীকাল জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান পালনে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চেষ্টা করবে ছাত্রলীগের বিবদমান সকল গ্রুপ উপগ্রুপ।
যুবলীগ নেতা টিনুর অনুসারী হিসাবে পরিচিত মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা সুমন শাহরিয়ার বলেন, আগামীকাল সমগ্র বাংলাদেশের জন্য বেদনাময় একটি দিন। সেদিন যারা সংঘর্ষ জড়াবে তারা কখনো জাতির জনকের অনুসারী বা সত্যিকারের ছাত্রলীগ হতে পারে না।
আগামীকাল শোক দিবস পালনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের মধ্যে কোন সংঘর্ষের আশংকা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত এসআই কামাল বলেন, আমার কাছে এমন কোন খবর আপাতত নেই। তবে কেউ সংঘর্ষের চেষ্টা করলে তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করবে পুলিশ বাহিনী।
শোক দিবসে সংঘর্ষের সূত্রপাত হতে পারে এই খবরের ব্যপারে জানতে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিগত দিনে ছাত্রলীগ নিজেদের মধ্যে বারবার সংঘর্ষে জড়ালেও পুলিশের সতর্ক অবস্থানের কারনে তা ভয়াবহ সংঘর্ষ হতে রক্ষা পাই।
মহসিন ও চট্টগ্রাম কলেজের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজ ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আগামী দিনে তাদের ক্যাম্পাসে পড়ালেখার সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করে শান্তি শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে জোর দাবি জানান।
মাসুম/এমএনজে





