মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ৭নং সব্দালপুর ইউনিয়নের কাজলী দক্ষিণ পাড়া, মোর্তুজাপুর, পিয়ারপুর ও বাখেরা চরপাড়া এলাকা দিয়ে সংঘবদ্ধ চোর সিন্ডিকেটের অপকর্মে অতিষ্ট অত্র এলাকার সাধারন জনগণ। প্রায় প্রতি রাতেই ঘটছে কোন না কোন চুরির ঘটনা। চোরেরা সমাজের প্রভাবশালীদের লোক হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছেনা কোন শাস্তিমূ ব্যবস্থা।

ভুক্তভোগি ও গ্রামবাসিদের নিকট থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায় যে, বেশ কিছুদিন ধরে এই এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটেই চলছে এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থ্যা গ্রহণ না করায় এই চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা দিনের পরদিন আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। ইঞ্জিন চালিত ভ্যান এবং খাসি ছাগল এদের প্রধান টার্গেট। রাতের অন্ধকারে গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে এবং ভ্যানের তালাবদ্ধ শিকল কেটে ভ্যান ও খাসি ছাগল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে এই সব চোরেরা। চোরেরা এলাকার প্রভাবশালীদের দুর্ধষ লোক হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে দেখে চিনে ফেললেও ভয়ে মামলা করতে বা চোরদের নাম বলতে সাহস করছে না ক্ষতিগ্রস্থ ভুক্তভোগিরা।

গত ৭ জুলাই ২০২০ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পিয়ারপুর গ্রামের রুবেলের স্ত্রী পাপিয়ার শয়নকক্ষে সিধকেটে ঘরে ঢোকে তাকে এবং তার শিশু সন্তানকে ছেন দা এর ভয় দেখিয়ে কানে থাকা স্বর্নের দুইটা দুল কানসহ ছিড়ে নিয়ে যায়। সে জানায় এই চোর কিছুদিন আগেও একবার আমার গলার চেইন নেওয়ার চেষ্টা করেছিলো, কিন্তু আমি চিৎকার করায় সেইবার নিতে পারেনি, এবারও ধস্তাধস্তি করেছিলাম কিন্তু সে আমাকে ছেন দা এর ভয় দেখানোয় আমি চিৎকার করতে পারিনি। আমি তাকে চিনি, সে আমাদের পাড়ার লোক কিন্তু ভয়ে আমি তার নাম বলতে পারছি না। নাম বললে হয়তো সে আমার বড় ধরনের ক্ষতি করে দিবে।

গত ১৪ জুলাই ২০২০ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গ্রামের শমসের মোল্লার ছেলে ভ্যান চালক আবুল মোল্লার ইঞ্জিন চালিত ভ্যান তার ঘরের তালা ও শিকল কেটে চুরি করে নিয়ে গেছে। গরীব অসহায় এই ভ্যান চালক কাঁদতে কাদতে জানায়, চুরির তিনদিন আগে কিস্তি তুলে এবং ঘরের সব ধান বিক্রি করে ২৭ হাজার টাকা দিয়ে আমার ভ্যানে নতুন ব্যাটারী লাগিয়েছি। এই ভ্যানের আয় দিয়েই এই কিস্তি শোধ করবো এবং সংসার চালাবো কিন্তু এখন আমি কি দিয়ে কিস্তি শোধ করবো?, কিভাবে সংসার চালাবো? আমি জানি কারা আমার ভ্যান চুরি করেছে কিন্তু নাম বললে তো আমাকে গ্রামে থাকতে দেবে না, এমনকি আমাকে দুনিয়া ছাড়াও করে দিতে পারে।

এছাড়াও গত ০১ জুলাই বুধবার দিবাগত রাতে কাজলী দক্ষিণ পাড়ার জব্বার খা এর পুত্র প্রতিবন্ধি ভ্যান চালক ওহিদুল এর ইঞ্জিন চালিত ভ্যান, বাখেরা নতুন পাড়ার ভ্যান চালক মস্তোহোসেনের ইঞ্জিন চালিত ভ্যান, কাজলী দক্ষিণ পাড়ার মানিক মিয়ার খাসি ছাগল চুরি হয়ে গেছে। এছাড়াও বাখেরা নতুন পাড়ার কেরামত বিশ্বাসের ছেলে বাদল বিশ্বাসের ভ্যান চুরিকালে চিৎকার করায় নিতে পারে নাই। এইসব চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা এই এলাকা থেকে মুরগি, কবুতর, মোবাইলসহ বিভিন্ন সাংসারিক মুল্যবান জিনিসপত্রও চুরি করছে।

এই এলাকায় অতিমাত্রায় চুরির ঘটনায় এলাকার মানুষ চুরি আতংকে আতংকিত হয়ে পড়েছে। তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছে না। তাই পুলিশ ও প্রশাসনের নিকট এলাকার মানুষের দাবি এর যেন একটা বিহিত করে। এই ব্যাপারে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী আহমেদ মাসুদ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি এই থানায় যোগদান করার পরে ঐ সমস্ত এলাকা থেকে এই ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাছাড়া আমি এ থানায় নতুন এসেছি, আমি আসার পূর্বে প্রতি মাসে এ থানায় ১৬-১৮টি নিয়মিত মামলা হতো, আর আজ মাসের ২২ তারিখ মামলা হয়েছে মাত্র ০৫টি, এখন আপনারাই বলুন আইনশৃঙ্খলার উন্নতি না অবনতি হয়েছে। আমি যথা সম্ভব চেষ্টা করে চলেছি- এই এলাকার আইন শৃংখলা আরো নিয়ন্ত্রণে আনা।

সাইফুল্লাহ/এএস