গোপালগঞ্জের উরফি ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা পছন্দ না হওয়ায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী বাদল ভদ্রকে (৩৮) হাতুড়িপেটা করেছে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির গাজীর সমর্থকরা।
বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ওই ইউনিয়নের মানিকহার মালাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মারাত্মক আহত বাদল ভদ্রকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে ওই গ্রামের বলরাম ভদ্রের ছেলে ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকবাল গাজীর কর্মী।
আহত বাদল ভদ্র জানান, বুধবার রাজ কিশোর বিশ্বাসের নতুন ঘর দেখতে তার বাড়িতে গেলে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির গাজী ছোট ভাই হিজবুল্লাহ গাজীসহ বেশ আমাকে মারধর করে আটকে রাখে। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আমাকে ভোট কেনার মিথ্যা অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কশিনার (ভূমি) মো. কামরুল ইসলাম ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
জরিমানার টাকা দিয়ে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফেরার পথে মনির গাজী, তার ভাই হিজবুল্লাহ গাজীসহ তার লোকজন আমাকে হাতুড়িপেটাসহ লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করে।
পরে আমি গোপালগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ করতে গেলে অফিসার ইনচার্জ অভিযোগ না নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। এখন তিনি হাসপাতালেও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান ইকবাল গাজী জানান, মনির গাজীর দাপটে আমি নিজে এলাকা ছাড়া। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমার কর্মীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা করা হয়েছে। পরে সাজা তার পছন্দ না হওয়ায় হাতুড়িপেটা করেছে।
অভিযুক্ত উরফি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির গাজী জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত শেষ হওয়ার পরে আমার কেউ বাদল ভদ্রকে মারধর করেনি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের আগে আমার ছেলেরা তাকে কয়েকটি কিল-ঘুষি মেরেছিল।
গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম রেজা জানান, বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছি। আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক কামরুল ইসলাম বলেন, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মারধর করার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এম আর





