কুষ্টিয়া শহরের অদূরে হড়লা গ্রামের নজরুল ইসলাম একজন শিক্ষক। পেশা শিক্ষকতা হলেও বাড়িতে গরু পালন তার নেশা।

এবার কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য দেশি জাতের ২৫টি ষাঁড় লালনপালন করছে তার পরিবার। ঈদুল আজহা আসন্ন, তাই নজরুল ইসলামের মতো শত শত খামারির ব্যস্ত সময় কাটছে গরু পরিচর্যায়।

এসব খামারির আশা, ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে গরু না এলে এ বছর ভালো দাম মিলবে দেশি গরুর। এতে গত দু'বারের লোকসান কিছুটা হলেও কাটানো যাবে।

এদিকে ওষুধ খাইয়ে কিংবা ইনজেকশন পুশ করে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে কিথনা, বিষয়টি তদারকি চালিয়ে যাচ্ছে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের হিসাব মতে, এবার কুষ্টিয়ার বিভিন্ন খামারে ৭২ হাজারের বেশি গরু রয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রমতে, এ সংখ্যা দুই লাখেরও বেশি।

খামারিরা জানিয়েছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও কুষ্টিয়ার দেড় থেকে দুই লাখ গরু যাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কোরবানির হাটে। গরু খামারি নজরুল ইসলাম জানান, গ্রামের খামারিরা সারাবছর পরিশ্রম করেন কিছু পয়সার জন্য। তবে ঈদের আগে ভারতীয় গরুর জোয়ারে তাদের সে কষ্ট বৃথা হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এবার দেশেই প্রচুর গরু রয়েছে। কোরবানি ঈদে গরুর কোনো সংকট হবে না। দেশের খামারিদের বাঁচাতে হলে ভারতীয় গরুর আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামের গরু ব্যবসায়ী টিক্কা জানান, গত দুই ঈদে বেশ লোকসান হয়েছে। এবার ভালো মুনাফা বলে আশায় বুক বেঁধেছেন। শেষ পর্যন্ত এবার ভারতীয় গরু এলে সর্বস্বান্ত হওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

গরু ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান জানান, সপ্তাহ খানেক আগেও দেশি গরুর বাজার ছিল চড়া। তবে হঠাৎ দেশি গরুর বাজার কিছুটা পড়ে গেছে। কারণ হিসেবে জানান, ভারত থেকে ১০ লাখ গরু আমদানির খবর শোনা যাচ্ছে। তাই ব্যবসায়ীরা চড়া দামে দেশি গরু কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে ভারতীয় গরু না এলে ভালোই দাম মিলবে।

এসব বিষয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, কুষ্টিয়ায় সীমান্ত এলাকা থাকলেও কোনো ভারতীয় গরু এদিক দিয়ে আসে না। কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার (এসপি) প্রলয় চিসিম বলেন, গরু ব্যবসায়ীদের মহাসড়কে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। গরু বহনের সময় পুলিশ প্রয়োজনে তাদের পাহারা দিয়ে এগিয়ে দেবে।

পুলিশের কোনো সদস্য অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজির বিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ জিরো টলারেন্সে। এদিকে, অবৈধ পন্থায় গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে কি-না, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনও কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আসাদুল হক জানান, অবৈধ পন্থায় কেউ গরু মোটাতাজা করছে কিনা, তা নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

এ নিয়ে প্রতিটি এলাকায় মনিটরিং টিম ও প্রচারপত্র বিলি করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেন, গরু খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা সব সময় খামারিদের পরামর্শ দিচ্ছেন।

এসএইচ