অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দিকে সুনজর দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের খারাপ লাগে যখন তারা অবহেলিত হয়।

আমরা তাদের মানুষ বলে বিবেচনা করি না। আমাদের নিশ্চিত হতে হবে, আমরা তাদের অবহেলা করছি না। রাষ্ট্র এই ব্যক্তিদের উন্নয়নে অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ১০৩টি সেবা সাহায্যকেন্দ্র আছে। সরকার এ ধরনের আরও ৪০টি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা খেলাধুলা করতে পারে, সাভারে সে ধরনের মাঠের কাজ দ্রুত শেষ করারও আশ্বাস দেন তিনি।

আজ রোববার ২৬তম আন্তর্জাতিক এবং ১৯তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস পালন উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘

সবার জন্য টেকসই ও সমৃদ্ধ সমাজ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এবার দিবসের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হচ্ছে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠান থেকে অর্থমন্ত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, সম্মাননা পাওয়া প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে যে ব্যক্তিরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

মুক্তিযোদ্ধা ব্যক্তিদের হাতে স্মার্ট হুইলচেয়ার এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হাতে অন্যান্য ডিভাইস তুলে দেন। এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মিরপুরে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে প্রতিবন্ধিতা উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। বিশ্বের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী বলে মানুষ স্মরণীয় কোনো কাজ করতে পারবে না তা নয়। তিনি বর্তমান সরকারকে ‘প্রতিবন্ধীবান্ধব’ সরকার বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের মহাসচিব সেলিনা আখতার বক্তব্য দেন।

এবার দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ রাখেনি সরকার। এ বিষয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়। এরই অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র ও অতিথিদের তালিকা দুই দফায় পরিবর্তন করা হয়।

দ্বিতীয় দফায় সংশোধনের পর সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তারকে মঞ্চে রাখা হয়। বক্তব্যে বিনা মূল্যে ব্রেইল বই বিতরণের জন্য তাহমিনা বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানায়।

আলোচনা অনুষ্ঠানের শেষে প্রয়াস, একসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিবন্ধী শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অতিথিদের মুগ্ধ করে।

এএস