দেশের উন্নয়নের জন্য নিরাপদ ও টেকসই সমুদ্র অর্থনীতির প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে রাজধানীর প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কশপ- ব্লু-ইকোনমি’ শীর্ষক দুদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ মত দেন।

বাংলাদেশসহ ২০টি দেশ এই কর্মশালায় অংশ নেয়।

এ কর্মশালায় বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, খোরশেদ আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (অর্থ) রিয়াজ হামিদুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের উন্নয়নের জন্য নিরাপদ ও টেকসই সমুদ্র অর্থনীতি প্রয়োজন। এ জন্য সাধারণ মানুষসহ অংশীজনদের নিয়ে একটা নীতিমালা ও কাঠামো দাঁড় করাতে হবে।

পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বলেন, আমি একজন সাধারণ ছাত্র হিসেবে পেছনে বসে এ জ্ঞানগর্ভ আলোচনা জানার চেষ্টা করেছি। এ ধরনের অভিজ্ঞতা আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা ভেবে দেখতে হবে।

খোরশেদ আলম বিভিন্ন গবেষকদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমরা এতে অনেক লাভবান হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার সকাল ১১টায় দুদিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক কর্মশালার উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সম্পূর্ণ একক প্রচেষ্টায় দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূকেন্দ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি সমুদ্রভিত্তিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আমাদের সামনে খুলে দিতে পারে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত। এই ক্ষেত্রে সমুদ্র সম্পদের অপার সম্ভাবনাকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নকে নিশ্চিত করতে হবে।

প্রথম দিনের কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

দুদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ওমান, ভারত, ইরান, কেনিয়া, তাঞ্জানিয়া, মরিশাস, চীন, জাপান, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সিসিলি, বাংলাদেশ।

সমুদ্র নিয়ে কর্মকাণ্ডের সবই আওয়ামী লীগের উল্লেখ করে সোমবার উদ্বোধনী বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সমুদ্র বিষয়ে আইন প্রণয়ন করেন। আর ১৯৮২ সালে সমুদ্রবিষয়ক কনভেশনে বঙ্গবন্ধু প্রণীত আইনের মূল বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, বিগত ৪০ বছরে মায়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ সমাধানে আর কোনো সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এমনকি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ২১ বছরে এ নিয়ে কোনো সরকার কোনো পদক্ষেপও নেয়নি।

আওয়ামী লীগ সরকারই সমুদ্র বিষয়ে যত সমস্যা হয়েছে, তার সমাধান করেছে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য সমুদ্রনির্ভর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পুরোটাই সমুদ্রনির্ভর।

এ কারণে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে বাংলাদেশ অর্থনীতির জিডিপির আকার বিশ্বে ৪৪তম। রফতানি আয় বার্ষিক ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আর বৈদেশিক বাণিজ্য ৬৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি বলেন, সমুদ্রের প্রাণিজসম্পদকে কাজে লাগিয়ে ওষুধশিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব।

সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদ আহরণে আর কোনো বাধা থাকলো না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি হওয়ার ফলে বাধাহীনভাবে সমুদ্র থেকে সম্পদ আহরণ করা যাবে। সমুদ্র বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তৈরির জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রবিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিবছর ৬০০-৮০০ মেরিন ক্যাডেট দেশে-বিদেশে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সমুদ্র বিষয়ে গবেষণার জন্য কক্সবাজারের রামুতে গড়ে উঠেছে প্রথম সমুদ্র বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়।

ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম,এএইচ