দ্বিতীয় শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে সোহাইবকে (১২) মোটরসাইকেলের পেছনে বসিয়ে স্কুল থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন বাবা সবুজ মিয়া। ১০ মিনিটের মধ্যে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি কোচ চাপা দেয় মোটরসাইকেলটিকে। ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারায় শিশুটি।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বগুড়ার দ্বিতীয় বাইপাস সড়কের বড়িয়া বটতলা মোড় এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে হানিফ পরিবহনের দূরপাল্লার কোচটি আটক করেছে।
নিহত সোহাইব বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার ইংরেজি মাধ্যম বেসরকারি বিদ্যালয় ডিআরএনেতে পড়ে। তার বাবা সবুজ মিয়া শহরতলির সাবগ্রাম চান্দুপাড়ার বাসিন্দা। সবুজ মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, সকালে স্কুল থেকে ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে সাবগ্রাম চান্দুপাড়ার বাড়িতে যাচ্ছিলেন সবুজ মিয়া। অন্যদিকে রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী কোচ মাটিডালি মোড় থেকে দ্বিতীয় বাইপাস সড়ক হয়ে বনানী মোড়ের দিকে যাচ্ছিল। চন্দনবাইশা সড়কের দিক থেকে বগুড়ার চেলোপাড়া সড়কের দিকে পারাপারের সময় মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয় হানিফ পরিবহনের দ্রুতগতির কোচটি। ঘটনাস্থলেই শিশু সোহাইব কোচের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারায়। সবুজ মিয়া মহাসড়কের পাশে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। আর মোটরসাইকেলটি কোচের সামনের চাকায় আটকে যায়।
শহরের নারুলী ফাঁড়ি পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (টিএসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, হতাহতের বিষয়টি টের পেয়ে কোচের চালক গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে দেন। প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত চাকার সঙ্গে আটকে যাওয়া মোটরসাইকেলটি টেনে নিয়ে যাওয়ার পর শহরতলির বাঁশবাড়িয়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আগুন ধরে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে যাত্রীসহ কোচ ফেলে পালিয়ে যান চালক ও সহকারী। পরে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শিশুর লাশ উদ্ধার এবং আহত তার বাবাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিও। এ ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় পুলিশ।
জারিফ





