বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় ২ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে উপজেলার দক্ষিণ সাতলা ও পূর্ব কমলাপুর গ্রাম থেকে ওই ২ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতদের মধ্যে একজন উপজেলার পূর্ব রাজাপুর গ্রামের খলিল বিশ্বাসের স্ত্রী সোবারুন বেগম (৪৫), অপরজন উজিরপুর উপজেলার দক্ষিণ সাতলা গ্রামের ফিরোজ ফকিরের স্ত্রী শিমু বেগম (২৮)। এদিকে নিহত শিমু বেগমের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ,হত্যার পরে তার লাশ ঘরের আড়ারার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

নিহত শিমু বেগমের ছেলে ইয়ানুর ফকির সাংবাদিকদের বলেন,শনিবার রাতে তার মাকে বাবা ফিরোজ ফকির,দাদী ফরিদা বেগম ও দাদা আবু বক্কর মারতে মারতে ঘরের বাহিরে নিয়ে যায়। তার কিছুক্ষণ পরে ধারাধরি করে ঘরে নিয়ে এসে গলায় দড়ি বেধে আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে তারা পালিয়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশকে জানালে তারা রবিার সকালে শিমুর লাশ উদ্ধার করে।

শিমুর পরিবারের বরাত দিয়ে উজিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির জানান, যৌতুক নিয়ে শিমুর স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদের সাথে কয়েক বছর ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিমু বেগমকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন,নিহতর শিমু বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়াও আত্মহত্যার যে সকল চিহ্ন শরীরে থাকার কথা সেগুলো পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, রোববার ভোরে পূর্ব রাজাপুর গ্রামের বিশ্বাস বাড়ি থেকে সোবারুন নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়,দীর্ঘদিন ধরে সোবারুনের সাথে তার পরিবারের সদস্যদের পারিবারিক কলহ চলছিলো। এই ঘটনার জের ধরে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে

ময়নাতদন্তের জন্য শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

দুই গৃহবধূর লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে উজিরপুর মডেল থানার (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,শিমু বেগমের মৃত্যু নিয়ে রহস্য রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার মৃত্যুর প্রকৃতি রহস্য ময়নাতদন্তের রির্পোটের পরে পাওয়া যাবে। পৃথক দুই ঘটনায় থানায় দুটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকা, ২৯ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ