রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আলুটারী গ্রামে জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও হত্যাকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হলোও এখনও ঝুলে আছে বিচার কার্য্য। ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সকালে তাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্যরা গুলি করে হত্যা করে।

চাঞ্চল্যকর এ মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হলেও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল না থাকায় এ মামলার বিচার কাজ এখনও শুরু হয়নি। কুনিও হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হলেও আরও চার জঙ্গি এখনও পলাতক রয়েছে। ওসি কুনিও হত্যার পরপর ওই অপারেশনের কমান্ডার জেএমবি নেতা মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর জঙ্গি খয়বর হোসেন, এছাহাক আলী এবং লিটনকে গ্রেফতার করা হয়। তারাও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ৮ জঙ্গির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

বাকি ৪ জঙ্গিকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। এরা হলো-রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহসান উল­াহ আনছারী, নজরুল ইসলাম, বাইক হাসান ও সাখাওয়াত হোসেন। আদালত পলাতক জঙ্গিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও তাদের মালামাল ক্রোকের জন্য পরোয়ানা জারি করেছেন। কিন্তু রংপুর বিভাগে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল না থাকায় সাধারণ আদালতে এ মামলার বিচার কতদিনে শুরু এবং শেষ হবে তা নিয়ে পুলিশ ও সরকারি আইনজিবীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘সাধারণ আদালতে যেন দ্রুত মামলার বিচার শেষ হয় সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে। রংপুর জেলার সরকারি আইন কর্মকর্তা পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলা দ্রুত বিচার শেষ করতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা দরকার।

তারপরেও যদি সম্ভব না হয় তাহলে দ্রুততম সময়ে মামলার বিচার শুরু করার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠক এমএ বাশার বলেন,কুনিও হত্যা মামলার পলাতক চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করে দ্রুত মামলার বিচার শেষ করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি রংপুরের সর্বস্তরের মানুষের।

এসএ