রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের বিলভরা গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে জামাইকে পিটিয়ে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের নাম বাবুল সেখ (৩৫)। তার পিতার নাম সুলতান সেখ। বাড়ি ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের চরমেগচামী গ্রামে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ী মর্গে পাঠিয়েছে।


নিহত বাবুল সেখের ভগ্নিপতি আজাদ, মামা জয়েন উদ্দিন সেখ জানান, বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের বিলভরা গ্রামের আমিন মন্ডরের মেয়ে সাবিনা পারভীনের সাথে বাবুল সেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি সন্তান হলেও মারা যায়। ১৫ দিন আগে সাবিনা পারভীন তার বাবার বাড়িতে চলে যান। বাবুলের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেন তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এনিয়ে বিরোধ চলার কারণে সাবিনা স্বামীর বাড়ীতে যাচ্ছিলেন না। রোববার সন্ধ্যায় বাবুল তার স্ত্রীকে নিতে শশুর বাড়ীতে আসে। সোমবার সকালে এনিয়ে কথা কাটাকাটি হলে বাবুল সেখকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মারপিট করাসহ বেধে রাখে। বিষয়টি বাবুল মোবাইল ফোনে তাদেরকে জানান। বিকাল ৩টার দিকে বাবুল বিষপান করেছে বলে প্রচার করে ও তাদেরকে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে আসতে বলেন। তারা বালিয়াকান্দি হাসপাতালে এসে না পেয়ে পুনরায় ফোন করলে বলেন মধুখালী হাসপাতালে যেতে। সেখানে গিয়ে না পেয়ে পুনরায় ফোন করলে ফরিদপুর হাসপাতালে যেতে বলেন। ফরিদপুর হাসপাতালে গেলে সেখানেও তাদেরকে না পেয়ে আবারো সাবিনার ভাই রুপচাঁদের নিকট ফোন করেন। তিনি জানান, সে মারা গেছে লাশ চরমেগচামী রেখে যাচ্ছি।
পরে স্থানীয় লোকজন লাশ রাখতে বাধা দিলে দ্রুত লাশ নিয়ে বিলভরা গ্রামে চলে যান। রাতে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। থানায় এলে বাবুলের ভাই আশারত সেখকে দিয়ে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করাসহ মঙ্গলবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য লাশ রাজবাড়ী মর্গে পাঠায়।
তারা আরো জানান, বাবুল সেখকে পিটিয়ে হত্যা করে তার মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে বিষপানের নাটক করেছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বিষয়টি নিয়ে রাজবাড়ী আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান।
আমিন মন্ডল ও রুপচাঁদ মন্ডল জানান, বাবুল সেখ তার স্ত্রী সাবিনার সাথে ঝগড়া করে বিষপান করে। ফরিদপুর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। এখন বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন।