ভারতীয় ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিল করায় বিরূপ প্রভাপ পড়েছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রীদেরকেও।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এলসি ও টিটির সংখ্যা কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। কবে মন্দা কাটতে পারে তা স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, ডিসেম্বরের আগে এ অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না।

প্রতিদিন যখোনে সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ ট্রাক পণ্য ভারত থেকে আমদানি হতো। রুপি বাতিল করার পর তা এসেছে আড়াইশ’ থেকে ৩শ’ ট্রাকে। বাংলাদেশি পণ্য রফতানি কমেছে প্রায় অর্ধেক।
এলসি খুলছনে না ব্যাবসায়ীরা। এছাড়া ভারতীয় রফতানিকারকরাও রুপির বাজার স্বাভাবিক হওয়ার পর এলসি খুলতে বলেছেন।

রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান যশোরের নওয়াপাড়া উপজেলার সিডলু টেক্সটাইল বিডি লিমিটেডের প্রতিনিধি আইয়ুব হোসেন জানান, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন তাদের ছয় থেকে সাত ট্রাক পণ্য ভারতে রফতানি হয়েছে। এখন রুপি বাতিল ও নতুন রুপি সংকটের কারণে ভারতীয় আমদানিকারকরা ব্যাংকে টিটি করতে পারছেন না। এতে নতুন করে রফতানি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বেনাপোল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এর এলসি শাখার প্রধান কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন জানান, চলতি মাসের ১্ থেকে ৬ তারিখে যখোনে বেনাপোল শাখায় ১৩ জন আমদানিকারক এলসি খুলেছেন সখোনে বাতিলের পর ৭ থেকে ১৯ নভেম্বর এসে মাত্র ১০টি এলসি খোলা হয়েছে।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা (সুপার) আব্দুস ছামাদ জানান, ১ থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২৫ ট্রাক বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি হয়। রুপি বাতিলের ঘোষণার পর ১৩ ও ১৪ নভেম্বর রফতানি হয় মাত্র দেড়শ’ ট্রাক। একইভাবে কমেছে আমদানিও।

প্রসঙ্গত, ৮ নভেম্বর রাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিনগত রাত ১২টা থেকে ৫০০ এবং ১০০০ রুপির নোট বাতিল ঘোষণা করেন।

নাসির/নাজিব