নোয়াখালীর হাতিয়ার উপজেলার চরকিং ব্রিজ বাজারের দুই আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম করেছে স্থানীয় সরকার দলীয় সংসদ সদস্যের সমর্থকরা। এ সময় ১০টি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১ দিকে এ ঘটনা ঘটে।
গত ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রতিক নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এমপির সমর্থকরা এসব কাণ্ড ঘটিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ খোদ উপজেলা আ.লীগের।
হামলার শিকার নেতারা হচ্ছেন- চরবগুলা গ্রামের সালামত উল্যাহর ছেলে আবুল কালাম বোকন ও আমির হোসেন। তারা স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বে রয়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া জাফর উদ্দিনের জননী বস্ত্র বিতান, মিরাজের চা দোকান, শাহরাজের মুদি দোকান, রহিমের কসমেটিকস দোকান, কামরুলের সিমেন্টের দোকান, মোস্তফার চালের দোকান ও মোল্লার দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়।
এদিকে এমপির কথা ধরে হাতিয়া থানা পুলিশ আ.লীগের অপর গ্রুফ পন্থী নেতাকর্মীদের অকারণেই হামলার পর মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করছে বলে অভিযোগ উপজেলা আ.লীগ সভাপতি অধ্যাপক মো. ওয়ালী উল্লার।
উপজেলা আ.লীগের অভিযোগ- স্থানীয় আওয়ামী লীগের এমপি আয়েশা ফেরদৌসের সমর্থকরা পুলিশের নাম বলে উপজেলা আ.লীগ সভাপতি অধ্যাপক ওয়ালী উল্যাহর সমর্থকদের ওপর বিভিন্ন সময়ে অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের হামলা থেকে রেহায় পায়নি খোদ সংখ্যা লঘু পরিবারের সদস্যরাও।
গত ইউপি নির্বাচনে যে সব ইউনিয়নে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে সে সব এলাকায় বেশি তাণ্ডব চালানো হচ্ছে। এমপি প্রতিটি ইউনিয়নে নৌকার বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়ে দিয়েছেন।
নির্বাচনের পর থেকে পুরো উপলায় তার সমর্থকদের হামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের অন্তত ৫ শতাধিক নেতা কর্মী গুরুতর আহত হয়েছে। কুপিয়ে ও গুলি করে জখম করা হয়েছে আরো অন্তত শতাধিক নেতাকর্মীদের।
এদিকে গত কয়েক দিনের অব্যাহত তাণ্ডবে উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চরকিং ইউনিয়র চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মহিউদ্দিনের এলাকায় তার সমর্থকরা বাড়ি ছাড়া হয়ে পড়েছেন।
এমপির সমর্থকদের লাগামহীন তাণ্ডব ও পুলিশের গণগ্রেপ্তারে পুরো ইউনিয়নের আ.লীগ নেতাকর্মীরা বাড়ি ছাড়া হয়ে পড়েছে। তারা তাণ্ডব চালিয়ে বাড়ি ঘর লুট করে ডাকাতি ও বিভিন্ন মামলায় আওয়ামী লীগ সমর্থকদের গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনের পর থেকে এমপির স্বামী মোহাম্মদ আলীর প্রত্যক্ষ মদদে আমার ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর তাণ্ডব চালানো হচ্ছে। সে আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই। দলের নাম ব্যবহার করে মেঘনার দুর্ধর্ষ ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। আমি হাতিয়ার সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আনতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম আরিসুল হক বলেন, ‘উপজেলার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন মামলার আসামী ও দাগি সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে।
এমআইএস





