চলতি বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও বন্যায় প্রায় ৮৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে, এতে ৮শ' কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্যায় ৮০ হাজার ৭৮৭ হেক্টর রোপা আমন ধানের জমি তলিয়ে গেছে। এই জমিতে প্রায় দুই লাখ ৬৯ হাজার ৫শ' মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হতো। যার বাজার মূল্য ছিল ৭৩৯ কোটি ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।
আর বন্যার পানিতে দুই হাজার ৩৯৮ হেক্টর সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে প্রায় ৫৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার সবজি উৎপাদন হবে বলে আশাবাদীছিল কৃষকরা।
এছাড়া কলায় এক কোটি ৪৫ লাখ এবং আদা চাষে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বীজতলাসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতির পরিমানও কিন্তু ভাবিয়ে তোলার মতো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভোক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব চিত্র পাওয়া গেছে।
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় এতে বেশ বড় মাপের ক্ষতির সম্মুখীন হন কৃষকরা।
এছাড়া আগস্ট মাসের বিভিন্ন সময়ের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে শুধু রংপুর অঞ্চলেই এক লাখ ৩১ হাজার ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত জমির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আউশ ও আমন ধান ছাড়াও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্য আমনের বীজতলা, বোনা আমন, বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি, মরিচ, পানের বরজ, কলা উল্লেখযোগ্য।
গত কয়েক দিন ধরে রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়া, গংগাচড়া, মিঠাপুকুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, এসব এলাকার ফসলি জমিসহ ঘর- বাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
রোপা আমন তলিয়ে যাওয়ায় বেশ ভাবনায় পড়েছেন চাষিরা। আকস্মিক এ প্রাকৃতিক দুযোর্গে একেবারেই ভেঙে পরেছেন এসব কৃষক। এই ধান থেকেই খোরাকের যোগান আসে এ অঞ্চলের বর্গা, প্রান্তিক ও ভূমিহীন চাষিদের। এরমধ্যে রয়েছে আবার ঋণের চিন্তাও।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা জানান, ফসল বোনার সময় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধার-দেনা ধান চাষ শুরু করেছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎ করে অসময়ের বন্যায় সব ভাসিয়ে নেওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে ক্ষতিগ্রস্ত এসব চাষিদের। এখনও পর্যন্ত সরকারি কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রংপুর আঞ্চলিক কর্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মহসিনবলেন,আমাদের কাজ হলো যথা সময়ে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে তদন্ত সাপেক্ষ তথ্য নিশ্চিত করা, এরপর মন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে তা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অভিযোগ, বন্যা-জলাবদ্ধতার কারণে তলিয়ে যাওয়া ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে না। তাই অনতি বিলম্বে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তারা।
কৃষকরা বলছেন, এই ক্ষতির ধকল কাটিয়ে উঠতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। অন্যথায়, সামনে আলু চাষে বিপদে পরতে পারে এসব কৃষক। আর সবচেয় বেশি বিপদগামী হবে এ অঞ্চলের যারা ভূমিহীন ও বর্গা চাষিরা।
এদিকে চাষিদের সব অভিযোগ প্রত্যাখান করে কৃষি বিভাগের দাবি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সমস্যা চিহ্নিত করে কৃষি উপকরণ ব্যবহারের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের রংপুর কার্যালয় জানায়, ২১ আগস্ট রংপুর সদর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারি ও লালমনিরহাট জেলায় গড়ে ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২২ আগস্ট ছিল ১৩৬ মিলিমিটারে। আগস্টে সাধারণত এ অঞ্চলে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে থাকে বলে জানান এই কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
এআর





